ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্লিনিকের বিলের জন্য নবজাতক বিক্রির চাপ, জরিমানা

ক্লিনিকের বিলের জন্য নবজাতক বিক্রির চাপ, জরিমানা
×

সংগৃহীত

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ২০:২১

নীলফামারীর ডোমারে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক শিশুকে বিক্রির জন্য স্বজনদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. ফারজানা আফরিনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা প্রসবব্যথা নিয়ে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার শেষে রিলিজ নেওয়ার সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত বিল দাবি করে। ভুক্তভোগী দম্পতির ভাষ্যমতে, ভর্তির সময় ২২ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে তারা টাকা জোগাড় করতে না পেরে ফি কমানোর অনুরোধ করেন।

রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা অভিযোগ করেন, টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ডা. ফারজানা তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং এক পর্যায়ে প্রসূতি ও স্বজনদের একটি রুমে আটকে রাখেন। বিল পরিশোধের জন্য তিনি নবজাতককে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন বলে তারা জানান। তবে ডা. ফারজানা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি শুধু বিল পরিশোধের জন্য চাপ দিয়েছেন, বিক্রির কথা বলেননি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার ক্লিনিকে অভিযান চালান ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী। অভিযানে নবজাতক বিক্রির চাপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে পর্যাপ্ত জনবল ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকার মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও অমানবিক আচরণের দায়ে ক্লিনিকটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
 

আরও পড়ুন

×