ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সরকারি গাড়িতে ডিসি অফিসে গেল ১০ লাখ টাকার মাছ

সরকারি গাড়িতে ডিসি অফিসে গেল ১০ লাখ টাকার মাছ
×

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার রায়পুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘খোয়াসাগর দিঘি’ থেকে গভীর রাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের দুই সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে রাতের আঁধারে এই কর্মকাণ্ড চলায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ একর আয়তনের এই সরকারি দিঘিতে মাছ ধরার মহোৎসব চলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জাল টেনে প্রায় দুই টনেরও বেশি মাছ ধরা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। ধরা পড়া মাছের মধ্যে ছিল বড় সাইজের রুই, কাতলা, আইড়, পাঙ্গাশ এবং সাত-আট কেজি ওজনের চিতল মাছ।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাছ ধরার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমান। মাছগুলো সরকারি গাড়িতে (লক্ষ্মীপুর-ঠ ১১-০০১৯ এবং ঢাকা মেট্রো-১৩-৩৭৭৮) তোলা হচ্ছিল।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করলে সহকারী কমিশনার শেখ সুমন কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মাছগুলো জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসে নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এই খোয়াসাগর দিঘি আগে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া হতো। প্রায় এক দশক আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী দিঘিটি জেলা প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর থেকে দিঘিটি আর ইজারা দেওয়া হয়নি, ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি সম্পদ যদি বৈধ নিয়মেই ধরা হয়, তবে দিনের আলোতে না করে কেন রাত ২টার পর চোরের মতো আঁধারে করতে হলো? তাদের দাবি, এই মাছগুলো কোনো দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার্থে বা কোনো প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে লুট করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিপুল পরিমাণ মাছের হদিস এবং রাতের আঁধারে এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা মনে করছেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন

×