ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যানজট নিরসনে দ্রুতগতি-ধীরগতির বাহন এক রাস্তায় আনার চিন্তা!

যানজট নিরসনে দ্রুতগতি-ধীরগতির বাহন এক রাস্তায় আনার চিন্তা!
×

শরীফ উদ্দিন সবুজ, নারায়ণগঞ্জ 

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৮ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্ঘটনা রোধে ২৩ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের প্রধান সড়ককে দ্রুতগতির যানবাহন ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুই লেনে বিভাজিত করা হয়েছিল। এত বছর পরে যানজট নিরসনের যুক্তি দেখিয়ে সেই বিভাজক উঠিয়ে দিতে চাচ্ছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তবে নগরবাসীর এ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আপত্তি। লেন উচ্ছেদের পরিবর্তে তারা লেন কার্যকরভাবে সচল রাখার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে চাষাঢ়ায় প্রিপারেটরি স্কুলের সামনে ট্রাকচাপায় রিকশা আরোহী মা ও সন্তান নিহত হন। ওই বছরের ১৬ জুন পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের নাগরিক নেতৃবৃন্দ দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল কবিরের প্রস্তাবে মেয়র আইভী এই লেন নির্মাণ করেন। কাছাকাছি সময়ে ঢাকায় রিকশা লেন নির্মাণ করা হলেও জায়গা কম রাখায় সেটি স্থায়িত্ব পায়নি। ঢাকার রিকশা লেন এক সময় উঠিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রিকশা লেন কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় তা টিকে যায়। 

গত ২৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সভাকক্ষে যানজট নিরসন ও হকার সমস্যা সমাধান বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, যানজট নিরসনের জন্য বিদ্যমান বিভাজক তুলে দিতে চান। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে পৌর পাঠাগার পর্যন্ত দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন রাখা হয়েছে। তবে এই লেন মানা হয় না। ধীরগতির বাহনের চালকরা দ্রুতগতির লেনে উঠে পড়েন এবং সেই লেনে যাত্রী ওঠানামা করেন। অন্যদিকে ধীরগতির লেনেও দ্রুতগতির যানবাহন ঢুকে যায়। এর মাধ্যমে দুটি লেনই অকার্যকর হয়ে পড়ে চলাচলের জন্য। এমন অবস্থায় লেন তুলে দিলে রাস্তা প্রশস্ত হবে, যান চলাচলের সুবিধা হবে বলে তিনি মনে করছেন।

তাঁর এ বক্তব্য নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে নগরবাসীর অনেকে এর বিপক্ষে মত দিচ্ছেন। 
নারায়ণগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের সাবেক গ্রন্থাগারিক মোশারফ হোসেন বলেন, লেন ভাঙ্গা নয়; বরং লেন যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। লেন অমান্য করে ধীরগতির যানবাহন দ্রুতগতির লেনে চলে গেলে বা দ্রুতগতির যানবাহন ধীরগতির লেনে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুতগতির যানবাহন ধীরগতির যানবাহনের মাঝ দিয়ে গিয়ে কোন কোন জায়গায় থামতে পারবে এটি নির্ধারণ করে দিতে হবে।  

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দীপু বলেন, লেন তুলে দিলে হকারদের পোয়াবারো হবে। তারা আরও জেঁকে বসবে। লেন ভাঙ্গা নয় বরং তা আগে যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। লেনের মাঝে মাঝে আগে ফাঁক ছিল। দ্রুতগতির কোনো যানবাহন নষ্ট হলে বা ধীরগতির কোনো যানবাহন ঢুকে গেলে সেটিকে পরের ফাঁকে বের করে দেওয়ার সুযোগ ছিল। এখন সেটি নেই। আবার রাস্তার বিভিন্ন স্থানের ইউটার্ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে উল্টো আসছে। তিনি আরও বলেন, হকার সমস্যা, চাষাঢ়া মোড়ের স্থাপনা সরানো, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, রেললাইনের পাশ দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো, সিটি সার্ভিস চালু, অবৈধ স্ট্যান্ড সরানো, ট্রেনের ডাবল লাইন- যানজট নিরসনে সিটি করপোরেশনের এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের উচিত আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।  

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, লেনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চাষাঢ়া মোড়কে উন্মুক্ত করা। চাষাঢ়া মোড়ের রাইফেলস ক্লাব, বায়তুল আমান ভবন, পুলিশ ফাঁড়ি, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো সরিয়ে চত্বরটাকে বড় করা দরকার। মূল সমস্যার দিকে না গিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।  
নাগরিক সংগঠন ‘নগর ভাবনা’র আহ্বায়ক সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ দিয়ে ফিজিক্যাল স্টাডি করা প্রয়োজন। 

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, লেন অপসারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। ওই দিনের সভায় এটি আমি তুলেছি। নারায়ণগঞ্জের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

আরও পড়ুন

×