ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ ১১ লাখ টাকায় ধামাচাপার চেষ্টা
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সামাজিক বিচার সালিশের নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গত বুধবার রাতে উপজেলা সদরের একটি হোটেলে উভয় পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
সালিশে সভাপতিত্ব করেন পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘সালিশি সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে হাসপাতাল (ক্লিনিক) কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা ওই মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করা হবে। বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে সমান দেড় লাখ করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, সালিশি সভার এই রায়ের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকি ৯ লাখ টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে ভুক্তভোগীদের কাছে জমা করবেন। পাশাপাশি, এই বিচার-মীমাংসার পর কোনো পক্ষই আর এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করতে পারবে না বলেও সালিশে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানান খবির উদ্দিন।
এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল বৃহস্পতিবার ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, ‘বিচার সালিশিতে কী হয়েছে, সেসব আমাদের জানার বিষয় না। গঠিত তদন্ত
কমিটির প্রতিবেদনে প্রসূতি মৃত্যুর সঙ্গে কর্তব্যরত ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে, অবশ্যই প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বক্তব্য জানতে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর বড় ভাই লিল মিয়া সর্দার বলেন, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিচার সালিশির মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা জরিমানার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) প্রসব ব্যথা নিয়ে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে (ক্লিনিক) ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ভুল চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণের মধ্যে প্রসূতি হাসপাতালেই মারা যান। এ ঘটনায় প্রসূতির বিক্ষুব্ধ স্বজনরা পরদিন ক্লিনিকটিতে হামলা ও ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সালিশি সভার কথা তাঁর জানা নেই। তবে একজন প্রসূতির মৃত্যুর পাঁচ দিন পরও এখনও কেউ মামলা করেনি, এটি আশ্চর্যজনক লাগছে।’
- বিষয় :
- ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু
