ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা
ফেনী শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিক সিলগালা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছবি: সমকাল
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:০৮
ফেনী শহরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় লিজা নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। গত শনিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে প্রশাসন।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী। স্বজনের অভিযোগ, শুক্রবার প্রসব ব্যথা শুরু হলে প্রথমে লিজাকে সদর উপজেলার লস্করহাটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাঁকে শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে আনা হয়। তারপর এখানে দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ২২ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়।
রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার অস্ত্রোপচার করেন নাসরিন আক্তার মুক্তা নামের এক চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের পরপরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বজনের চাপে লিজাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এমরান হোসেন নামে নিহত প্রসূতির এক স্বজন দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাঁকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এক পর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, ক্লিনিকটি অনৈতিক ও বেআইনিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, তিনি ঘটনা জেনে হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার কল করলেও সাড়া মেলেনি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, বিষয়টি জেনে তারা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও সিলগালা করা হয়েছিল এবং শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল জানিয়ে ফেনী সিভিল সার্জন রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে।
