ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়া

ইজারা না নিয়েই রেলওয়ের কাঁচাবাজার দখল

ইজারা না নিয়েই রেলওয়ের কাঁচাবাজার দখল
×

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কাঁচাবাজার দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাশের সাপ্তাহিক কমলমুন্সিরহাট ইজারা নিয়েছে। তারাই মঙ্গলবার সকালে রেলওয়ের কাঁচাবাজারটি দখলে নিয়েছে।

সংবাদ পেয়ে গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। এ সময় তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে তিনি কাঁচাবাজার দখলকারীদের বাজারটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের চক্রশালা এলাকায় রেলস্টেশনের কাছেই রেলওয়ের কাঁচাবাজারটি অবস্থিত। প্রতিদিন সকালে সেখানে বাজার বসে। আশপাশের কৃষকরা সেখানে শাকসবজি বিক্রি করে থাকেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাঁচাবাজারটি ইজারা নেন রফিক আহমদ নামের এক ব্যক্তি। একই এলাকায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা প্রশাসন কমলমুন্সিরহাট নামের একটি সাপ্তাহিক হাটের ইজারার দরপত্র আহ্বান করে। সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার বসে এই হাটটি। প্রশাসনের কাছ থেকে সেটি জিয়াউল হকের নামে ইজারা দেওয়া হয় এপ্রিলে। তারা ওই হাটের হাসিল নেওয়ার কথা রবি ও বৃহস্পতিবার। কিন্তু মঙ্গলবার রেলওয়ে কাঁচাবাজার দখল করে হাসিল আদায় শুরু করেন তারা।
উপজেলা প্রশাসনের কমলমুন্সিরহাট ইজারা-সংক্রান্ত নোটিশে রেলওয়ের জায়গা ছাড়া অন্যান্য জায়গার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপরও রেলওয়ের নিয়ন্ত্রিত বাজারটি দখলে নেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রেলওয়ে কাঁচাবাজারের ইজারাদার রফিক আহমদ বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জায়গাটি ইজারা নিয়ে বাজার পরিচালনা করে আসছি। হঠাৎ করে একটি সংঘবদ্ধ দল আমাদের লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে গত মঙ্গলবার বাজারটি দখল করে নেয়। এরপর থেকে তারা অবৈধভাবে টোল ও কমিশন আদায় করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ সকালে ওই বাজারটি দখলে নেয় কমলমুন্সিরহাট ইজারা নেওয়া লোকজন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রফিক আহমদ।
কমলমুন্সিরহাটের ইজারাদার জিয়াউল হকের নামের নিচে লেখা মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি রিসিভ করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিপলু। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমরা কারও জায়গায় গিয়ে টোল কিংবা হাসিল নিচ্ছি না। আমরা আমাদের নির্ধারিত জায়গায় টোল আদায় করছি। আমরা কাউকে জুলুম করছি না।’
লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। যারা দখল করে আছেন, তাদের বাজার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’ যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসনের নির্দেশনার পরও বাজারটি দখলমুক্ত হয়নি। কমলমুন্সিরহাটের নামে টোল আদায় চলছে। 

আরও পড়ুন

×