খুবিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি টেকসই উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ
ছবি: বাসস
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০৪
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। ভৌগোলিক কারণেই এই জনপদ ‘রিয়েল ক্লাইমেট ভিকটিম’। এ অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মাটি ও পানির দূষণ টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রামপাল, মোংলা, কয়রা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে এ সমস্যা প্রকট। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করতে গবেষকদের কাজ করতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রেজিলিয়েন্স ইন দ্য কোস্টাল জোন অব বাংলাদেশ আন্ডার এ চেইঞ্জিং ক্লাইমেট’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন।
অনষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ বহুমুখী সংকটের সম্মুখীন। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে আমাদের এখনই সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশের এই বিপর্যয়ের জন্য আমরাও কোনো না কোনোভাবে দায়ী। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সম্পৃক্ত করে গবেষণার মাধ্যমে সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে। যে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
সম্মেলনে চিফ প্যাট্রন হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হোসেন, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত।
সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের চায়নিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. শিনহুয়া পেং। সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য দেন জাপানের ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশির ড. রিওটা কাতাওকা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম জহিরুদ্দিন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
