ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছাগলের খামারে ছিল স্বপ্ন এখন অকূলপাথারে

ছাগলের খামারে ছিল স্বপ্ন  এখন অকূলপাথারে
×

নিজের খামারে ছাগল পরিচর্যা করছেন মমতাজ বেগম। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার কামালিয়াকান্দি গ্রামে- সমকাল

 কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ছেলের গড়া একটি ছাগলের খামার মমতাজ বেগমকে ভাগ্য বদলের পথ দেখিয়েছিল। কিন্তু আকষ্মিক অসুস্থতায় ছেলের মৃত্যু ঘটে। এতে অকূলপাথারে পড়েছেন মমতাজ। অসুস্থ স্বামী-সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এই গৃহবধূ অবশেষে স্বপ্নের খামারটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

মমতাজ বেগম (৫২) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার কামালিয়াকান্দি গ্রামের সৈয়দ শামীমের স্ত্রী। 

গত ৬ মাস আগে মমতাজের ছোট ছেলে ফাহিম মারা যান। ছেলের মৃত্যুর পর খামারটির হাল ধরেছিলেন মমতাজ বেগম। পরিবারে তাঁকে সহায়তা করার মতো কেউ নেই। তাঁর স্বামী (৬০) একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অপরদিকে বড় ছেলে জীবন মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। একমাত্র মেয়ে বন্যা বিবাহিত। তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা ফাহিম ছিলেন সবার ছোট। ছাত্রাবস্থায় পরিবারটির হাল ধরতে ছাগলের খামার গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে মমতাজ বেগম ছাড়া খামারটি দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। পঞ্চাশোর্ধ বয়সে সংসার সামলে খামারটি পরিচালনা করতে গিয়ে পেরে উঠছেন না মমতাজ। 
সৈয়দ শামীম বলেন, সাত বছর আগে ফাহিম তিনটি ছাগল কিনে খামারটি সূচনা করেছিল। গত সাত বছরে খামারটি অনেকদূর এগিয়ে যায়। খামার থেকে এ পর্যন্ত ১৪ লাখ টাকার ছাগল বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক ছাগল থাকাবস্থায় ফাহিম আকস্মিক অসুস্থ হয়ে মারা যায়। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে খামারটিতে উন্নত প্রজাতির ৩০টি ছাগল রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ছাড়া খামারটি দেখভাল করার কেউ নেই। অসুস্থ স্বামী-সন্তান আর খামার নিয়ে তাঁর স্ত্রীর মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। ক্লান্ত শরীর নিয়ে খুলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। 

খামারের ছাগলগুলো বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মমতাজ বেগম বলেন, ‘আর কুলাইতাম পারছি না। নাইলে কি ইমুন খামার শেষ কইরা দিবার চিন্তা করতাম!’
কামালিয়াকান্দি গ্রামের পল্লিচিকিৎসক জাকির হোসেন (৪০) বলেন, মানুষের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখা পড়েছি। আর এই পরিবারটির সংগ্রামী জীবন নিজ চোখে দেখেছি। ফাহিমের গড়া খামারটি পরিবারকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। পরিবারের বর্তমান অবস্থায় তাঁর খুবই আফসোস হয়। 
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. তারেক আহমেদ বলেন, মমতাজ বেগম একজন সফল উদ্যোক্তা এবং সংগ্রামী নারী জীবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মমতাজের খামারটির বিষয়ে তারা সবসময় খোঁজখবর রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়েছেন। এ বছরের প্রদর্শনী মেলায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। খামার নিয়ে মমতাজের সিদ্ধান্তে তাঁরা ব্যথিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×