ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়িপেটা করে হাত ভেঙে দিল চাচা

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়িপেটা করে হাত ভেঙে দিল চাচা
×

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে তার চাচা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার শাঁখারীকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই পরীক্ষার্থী বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর নাম বীথি আক্তার (১৫)। সে তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারীকাঠি গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে ও তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩৩)। 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাদল হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিক ঘটনা নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে বাদলের স্ত্রী পারভীন 
বেগম দুপুরের রান্না করছিলেন। এ সময় চুলোর ধোঁয়া নজরুরের বসতঘরে যায়। এ নিয়ে নজরুল ও পারভীনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে নজরুল জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে আসবাব ও হাঁড়িপাতিল ভাঙচুর করে। বীথি আক্তার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা প্রথম পত্র বিষয়েপরীক্ষা দিয়ে বিকেলে বাড়ি ফেরে। এ সময় সে ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানালে নজরুল ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায়। এতে বীথির ডান হাত ভেঙে যায়। 

ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বীথি জানায়, তার চার ভাই-বোনের মধ্যে কেউ এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। অনেক আশা নিয়ে সে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ায় এখন তাঁর পরীক্ষার কী হবে?
মঠবাড়িয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রী যাতে আগামী পরীক্ষাগুলো দিতে পারে এ জন্য ওই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রুতিলেখক (রাইটার) হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। শ্রুতিলেখকের সহায়তায় যেন সে পরীক্ষা দিতে পারে, এ জন্য ইউএনওর সুপারিশসহ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে ওই শিক্ষার্থী অন্যান্য পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×