ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ায় তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ায় তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
×

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বাংলা প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে তারা শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। ঘটনাটি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের আওতাধীন কানসাট সোলেমান ডিগ্রি কলেজের ৮ নম্বর কক্ষে ঘটে।
সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষকরা হলেন, কানসাট মাহেদুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাকসুদুর রহমান, দাইপুকুরিয়া ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়েরে সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান এবং হল সুপার আব্দুস সাত্তার।

অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মাজহারুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের এ নিয়ে কোন সমস্যা হবেনা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কয়লারদিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কক্ষ পরিদর্শক ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন। পরে কেন্দ্রে জানানো হলেও প্রতিকার না পেয়ে শিক্ষার্থীরা পরিবারের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী এবং কয়লারদিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া রাণীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ৪ পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাহমিদুর রহমান জানায়, বহুনির্বাচনী অংশে সঠিক প্রশ্ন পেলেও সৃজনশীল অংশে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন দেওয়া হয়। বিষয়টি জানানো হলেও কক্ষ পরিদর্শক গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো গালাগাল করেন এবং একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও একই ধরনের আচরণ করা হয়। একই অভিযোগ করে পরীক্ষার্থী তমিজ উদ্দিন ও তামিম ইকবাল। এদিকে অভিযুক্ত কক্ষ পরিদর্শক কথা বলতে রাজি হননি। তবে হল সুপার আব্দুস সাত্তার দাবি করেন, নিয়ম মেনেই প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরাই ২০২৫ সালের প্রশ্ন চেয়ে নিয়েছে।
কেন্দ্র সচিব ও কানসাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘এটি কোনো ভুল নয়। পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ বা ২০২৬-যেকোনো সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কক্ষ পরিদর্শক, হল সুপার ও কেন্দ্র সচিব–এই তিনজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার ৩টি কেন্দ্রে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে কানসাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রায় ১৬০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×