খরচ বাড়লেও দাম কম
রাণীনগরে ধান কাটার শুরুতেই লোকসানে কৃষক
বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। রাণীনগরের কালীগ্রাম মাঠ সমকাল
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর রাণীনগরে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে ধান চাষের খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারদর কম থাকায় চরম হতাশায় রয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ মিলারের গুদামে পর্যাপ্ত এলসি চাল মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার আগ্রহ কম। ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও কম। বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাণীনগরে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে জিরাশাইল, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯২, কাটারীভোগসহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ
করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, এবার আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজার দরে ধান বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আবাদপুকুর এলাকার কৃষক হেলাল উদ্দীন হেলু মণ্ডল জানান, তিনি নিজস্ব ও বর্গা মিলিয়ে ৪৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ১০ বিঘার ধান কেটে প্রতি মণ ১০৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে বিঘাপ্রতি ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
কালীগ্রাম বড়িয়াপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, ১৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করলেও ফলন কমে গেছে। দুই বিঘা জমি থেকে প্রতি বিঘায় ২০-২২ মণ ধান পেয়েছেন।
কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ১৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তাঁর মতে, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ মণ ধান কম উৎপাদন হচ্ছে এবং দামও কম। এতে কৃষকরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। তিনি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আবাদপুকুর বাজারের ধান ব্যবসায়ী লেবু হোসেন বলেন, বুধবার হাটে প্রায় ৪৬৭ মণ ধান কেনা হয়েছে। প্রতি মণ ধান ১০২০ থেকে ১০৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিলারদের আগ্রহ কম থাকায় দাম বাড়ছে না। আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে লোকসানের আশঙ্কার কথা স্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন। সমকাল প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার প্রতি বিঘায় গড়ে ২৩ থেকে ২৬ মণ ফলন হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
- বিষয় :
- ধান সংগ্রহ
