ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা

ডিজেল সংকটে পরিবহন অচল, কর্মহীন শত শত শ্রমিক

ডিজেল সংকটে পরিবহন অচল, কর্মহীন শত শত শ্রমিক
×

পর্যাপ্ত ডিজেল মিলছে না। তাই গাইবান্ধার দুই-তৃতীয়াংশ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সমকাল

মাসুম লুমেন, গাইবান্ধা 

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধায় তীব্র ডিজেল সংকটে অচল হয়ে পড়েছে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা। বাস-ট্রাকের একটি বড় অংশ বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এ সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে শুধু পরিবহন খাত নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে চালকের সহকারী আসাদ মিয়া বলেন, ‘আমার কর্মজীবনে তেলের এমন ভোগান্তি দেখিনি। তেল না পাওয়ায় আমরা বেকার বসে আছি। বাজারও দুই দিন ধরে বন্ধ। বাস না চললে আয় নেই, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, যেসব মালিকের নিজস্ব তেল পাম্প রয়েছে, তাদের গাড়ি চললেও অন্যরা বিপাকে পড়েছেন।
বাস-ট্রাক মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৫০টির বেশি বাসের মধ্যে অন্তত ৫০টি নিয়মিত চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে প্রায় এক হাজার ট্রাকের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ছয় হাজার শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে।

ট্রাকচালক লিংকন বলেন, ‘তেল না পেয়ে শতাধিক ড্রাইভার-হেলপার বেকার বসে আছেন। যাদের নিজস্ব পাম্প নেই, তারা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন।’
গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের একটি পরিবহনের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘একটি বাস চালাতে ৮-১০টি পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। এক দিন তেল পাওয়া গেলে পরের দিন পাওয়া যায় না। ফলে অনেক গাড়ি টার্মিনালে অলস পড়ে আছে।’

সাঘাটা উপজেলার বাস মালিক সোহরাব মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয় হতো। এখন তেলের অভাবে বাস বন্ধ। দুদিন পর গাড়ি ঢাকায় থেকে ফিরেছে।’
ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম। পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, ‘ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম তেল দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

গাইবান্ধা ট্রাক মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘একাধিক ট্রাক থাকলেও এখন একটি বা দুটি চালানো যাচ্ছে। বাকিগুলো বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।’
শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাদশা মিয়া বলেন, ‘একটি বাস-ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালক-হেলপার নয়, আরও পাঁচ-সাতজন শ্রমিক যুক্ত থাকে। 
ফলে এই সংকটে হাজারো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×