ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিলেট বইমেলা বাতিল করায় সংস্কৃতি অঙ্গনে ক্ষোভ

সিলেট বইমেলা বাতিল করায় সংস্কৃতি অঙ্গনে ক্ষোভ
×

 সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রকাশক পরিষদ আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বইমেলা শুরু হওয়ার আগেই বাতিল হয়ে গেল। ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের জন্য এ আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে প্রত্যাহার করেছে। এ নিয়ে সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২২ এপ্রিল রাতে এসএমপির পক্ষ থেকে প্রকাশক পরিষদকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, সভাপতি নাজমুল হক নাজুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। চিঠিতে ডিসি উত্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপি সিলেট বিভাগের সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য সাজন আহমদ সাজু এবং মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি জুবায়ের আহমদ স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে কিছু প্রকাশকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়।

এসএমপির বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বইমেলা করার জন্য একটি আবেদন করেছিল প্রকাশক পরিষদ সিলেট। আবেদনের পর প্রথমে তাদের অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু পরে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি জুবায়ের আহমদ ও বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সাবেক নেতা সাজন আহমদ সাজু ২২ এপ্রিল এসএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

প্রকাশক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান এক বিবৃতিতে জানান, মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। অনুমতি বাতিল করায় প্রকাশক পরিষদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একইভাবে বইমেলা বাতিল হয়েছিল। এবার নির্বাচিত সরকারের আমলেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো।
অভিযোগপত্রে ঘাস, চৈতন্য ও অভ্র প্রকাশনার বিরুদ্ধে আওয়ামী সাংস্কৃতিক লেজুড়বৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেন, এসব প্রকাশকের সংশ্লিষ্টতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ঝুঁকি তৈরি করবে। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই এসএমপি অনুমতি প্রত্যাহার করে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা মনে করেন, একটি মহল থেকে মেলা বন্ধের উস্কানি ছিল। তাদের মতে, বইমেলা কেবল বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের মিলনস্থল, একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রকাশভূমি। সেখানে রাজনৈতিক সন্দেহ বা বিরোধ প্রবেশ করিয়ে এমন আয়োজন ব্যাহত করা মানে সাহিত্য-সংস্কৃতির স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করা।

এদিকে শনিবার বইমেলা বাতিলের প্রতিবাদে ১৫৩ জন কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী বিবৃতি দিয়েছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি অভিযোগের ভিত্তি হয় ‘কে কার সঙ্গে ছবি তুলেছে’ বা ‘অতীতে কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল’, তবে কি আমরা আইনের শাসনে পরিচালিত হচ্ছি, নাকি অনুমান ও সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি?’
১৫৩ জন সংস্কৃতিকর্মীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কারণ উপস্থাপন না করেই বইমেলা বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের বাধা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না; বরং এটি সৃজনশীলতাকে দমিয়ে দেয়, বিভাজনকে উসকে দেয় এবং সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলে।
এ ব্যাপারে প্রকাশক পরিষদের সভাপতি নাজমুল হক নাজু জানান, তাদের ২২টি প্রকাশনা সংস্থা আছে। এই সংস্থাগুলো সিলেটের সাহিত্যের উন্নয়নে কাজ করছে। 
এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি জুবায়ের আহমদ জানান, তারা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এ অভিযোগ তিনটি প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে। তাদের অবস্থান মেলার বিরুদ্ধে নয়। একই বক্তব্য সাজন আহমদ সাজুরও। তিনি বলেন, তারা মেলা করুক  সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু তিনটি সংস্থাকে বাদ দিতে হবে।

আরও পড়ুন

×