বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ
ছবি: ফাইল
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৩ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:০৩
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা গত মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অচল হয়ে আছে। কোনো পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ হওয়ায় চলমান অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যদিও কর্মবিরতি শুরুর দুই দিন পর শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে চলমান পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপাচার্যকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম শুরু থেকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালা মানার দোহাই দিচ্ছেন।
১৫ বছর বয়সী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অধ্যাপক মাত্র একজন। দুই বছর ধরে সব পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ। অধ্যাপক পদে ২৪ জন, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩০ জন এবং সহকারী অধ্যাপক পদে ছয়জন পদোন্নতি চেয়ে আসছেন। এ নিয়ে গত প্রায় ছয় মাস ধরে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষকদের দফায় দফায় আলোচনা ও নানা দেনদরবার হয়। এসব ভেস্তে যাওয়ায় মঙ্গলবার কর্মবিরতি ও বুধবার থেকে কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন পালন করছেন শিক্ষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজস্ব আইনে পরিচালিত হতো এবং সব সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউসিজি) গত ১ জানুয়ারি পরিপত্রে জানিয়েছে, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি, পদোন্নতি ও পেনশন অভিন্ন নীতিমালায় হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিধি, প্রবিধি প্রণয়ন করে চ্যান্সেলরের (রাষ্ট্রপতি) অনুমোদন নিতে হবে। সূত্রমতে, ইউসিজির নির্দেশনার চিঠি ববি উপাচার্যের কাছে পৌঁছানোর পরই শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি আটকে গেছে।
অপরদিকে, শিক্ষকদের যুক্তি হচ্ছে– ইউসিজির পরিপত্র জারির দুই মাস আগে ববির ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের বৈঠক ও সুপারিশ শেষ হয়। তখন ববির বিদ্যমান নীতিমালায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সেই সুপারিশ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়নি। তাই তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউসিজির পরিপত্র কোনো বাধা নয়। ববি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম বলেন, এই পরিস্থতির জন্য একমাত্র উপাচার্য দায়ী।
আরও অভিযোগ উপাচার্যের বিরুদ্ধে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম গত বছর ২৫ মে ববি উপাচার্য নিযুক্ত হন। তৎকালীন উপাচার্য ড. শুচিতা শারমিনের বিরুদ্ধে টানা ২৯ দিন আন্দোলনের পর তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ড. তৌফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সব ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন।
ববির কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, দুই বছর ধরে তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির অর্ধশতাধিক কর্মচারী পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। গত সোমবার উপাচার্য পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে ইউজিসির আইনের জটিলতার কথা বলছে। এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে।
অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেই
উপাচার্য ড. তৌফিক সমকালকে বলেন, ইউজিসির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করতে হবে। আইনগতভাবে আমার আর কোনো সুযোগ নাই। এর পরও যদি আমি কোনো কিছু করতে চাই, আইনের ব্যত্যয় ঘটাবে। যারা পদোন্নতি নেবে তারাও ভবিষ্যতে শাস্তির আওতায় আসবে। তাদের অবসর-পরবর্তী পেনশন দেওয়ার সময়ে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা কেটে রেখে দেবে। উপাচার্য দাবি করেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ইউসিজির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ফোন না ধরায় এ বিষয়ে ইউসিজির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জামিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
- বিষয় :
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
