ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘুষি মেরে হত্যার পর ২০ লাখ টাকায় মীমাংসা
ফাইল ছবি
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৫১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে কিল-ঘুষিতে হানিফ মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার মনোবাবুর নৌকা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে বিষয়টি ২০ লাখ টাকায় আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
নিহত হানিফ মিয়া সদর উপজেলার বগডহর গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা প্রয়াত হারিজ মিয়ার বড় ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে হানিফ মিয়া নদীপথে নৌকা দিয়ে মেরকাটা গ্রামে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। নৌকায় বসার জায়গা নিয়ে তার সঙ্গে পাশের মোহল্লা গ্রামের মোহাম্মদ খার ছেলে এলেম খার বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় এলেমের কিল-ঘুষিতে গুরুতর আহত হন হানিফ। স্থানীয়রা তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
জানা গেছে, রোববার রাতেই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসানের কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা এলেমকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। বৈঠকের নগদ চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১৬ লাখ টাকা ১০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হত্যার ঘটনা এভাবে টাকার বিনিময়ে মীমাংসা হওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলছেন, হত্যার বিচার কি এভাবে হয়? এটা তো আইনবহির্ভূত।
জানা গেছে, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বগডহর গ্রামের মোহাম্মদ সামছুল হক। নবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সভা পরিচালনা করেন। সভায় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, স্থানীয় সাবেক মেম্বার ওবায়দুল হক, সমাজসেবক তৈফিকুল হক এবং বাচ্চু মিয়া, হাবিব মিয়াসহ দুই গ্রামের কয়েক মাতবর উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন তিনি গরিব মানুষ; আমাদের গোষ্ঠীরই লোক। দুই গ্রামের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা উভয়পক্ষের সম্মতিতেই বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’
হত্যা মামলার বিচার এভাবে করা আইনবহির্ভূত জানিয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সালিশ বৈঠকের বিষয়টি আমরা অবগত নই। নিহতের পরিবারের কেউ মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর আজ সোমবার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
- বিষয় :
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- ঘুষি
- মৃত্যু
- মীমাংসা
