ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ববিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি উপাচার্যের

ববিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
×

বরিশাল ব্যুরো 

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এবার সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষকরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। 

এদিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম। 

ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনে শিক্ষকরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকবেন। শিক্ষকদের আন্দোলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সাল থেকে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও উপাচার্য আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে তা ঝুলিয়ে রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুর কমিশনের (ইউজিসি) একটি চিঠির অপব্যাখ্যা দিয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করছেন। এর ফলে ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উপচার্যের ‘প্রশাসনিক অদক্ষতা’ ও ‘অধিকার হরণের’ প্রতিবাদে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ইউজিসি গত ৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চিঠি পাঠায়, তা থেকে বোঝা যায় উপাচার্য ইউজিসির সঙ্গে এমন কিছু সমঝোতা করেছেন, যার ফলে ববি এখন থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নয়; বরং ইউজিসির নির্দেশনা ও উপাচার্যের মতামত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

পরে উপাচার্য তাঁর কক্ষে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংকট নিরসনের জন্য তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিতে যেতে চেয়েছি, কিন্তু তারা রাজি হননি।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা (শিক্ষকরা) যদি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখেন, তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় আমার দিক থেকে যা যা করণীয়, আইন অনুযায়ী আমি তাই করব।’
ববি শিক্ষকরা পদোন্নতির দাবিতে ২১ এপ্রিল থেকে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চলমান পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×