অপরিকল্পিত শহরায়ণে বাড়ছে জলাবদ্ধতা-যানজট, ভোগান্তি
কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজারে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে এলাকাবাসী সমকাল
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের মধ্যস্থলের প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র রবিরবাজার।
২০০ বছরের পুরোনো এ ব্যবসাকেন্দ্র কালের পরিক্রমায় প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে প্রায় দুই হাজার দোকান রয়েছে। এ বাজারকে কেন্দ্র করে অপরিকল্পিত শহরায়নের কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে রবিরবাজারের ব্যবসায়ী এবং সেখানে কেনাকাটা করতে আসা জনসাধারণকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রবিরবাজার রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, ভূমি অফিস, হাসপাতাল, বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা এবং এনজিও প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়িক কারণে মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগে ব্যাপক পরিচিতি ও গুরুত্ব রয়েছে এই বাজারের। সরকার এখান থেকে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বাজারটি।
রবিরবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রায় চার কিলোমিটার চতুর্মুখী এলাকাজুড়ে কুলাউড়া-রবিরবাজার-ঝিলেরপার, রবিরবাজার-কর্মধা ইউনিয়ন রোড, রবিরবাজার-টিলাগাঁও সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। এতে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোডসহ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। এলজিইডি, সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় রবিরবাজারের সড়কগুলো নির্মাণ হলেও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। যে কারণে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সড়ক উপচে দোকানঘরে প্রবেশ করে নোংরা পানি। দীর্ঘ সময় সড়কে পানি জমে থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাজারের ভেতরে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার একাধিক স্ট্যান্ড। রাস্তার ওপর রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে ব্যাপক যানজট হয়। এ ছাড়া ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকায় বাজারের দুটি সরকারি পুকুরসহ আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বাজারে কয়েকটি শেডঘর জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এগুলো যে কোনো সময় ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিত শহরায়নের ফলে রবিরবাজার ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। রবিরবাজার থেকে টিলাগাঁও সড়কের পাশে থামা গাঙ পর্যন্ত এবং পূর্ব রবিরবাজার থেকে শুকনাছড়া পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করা হলে এ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মাসুক আহমদ বলেন, কুলাউড়া উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র এই রবিরবাজার। এখানে স্থানীয় ড্রেনেজের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এ ছাড়া রবিরবাজারের পাশ দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হলে যানজট সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে।
এলজিইডির কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, পূর্ব রবিরবাজারে সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আক্কাছ আলী জানান, বিগত সময়ে রবিরবাজার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ না থাকায় ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। সেখানে জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
কুলাউড়া ইউএনও মো. মহিউদ্দিন বলেন, রবিরবাজার বৃহৎ একটি ব্যবসা কেন্দ্র। রবিরবাজারের সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেখানে যানজট ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
- বিষয় :
- জলাবদ্ধতা
