ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কালবৈশাখীর তাণ্ডব সাত দিন ধরে, ঘরছাড়া মানুষের আকুতি

কালবৈশাখীর তাণ্ডব সাত দিন ধরে, ঘরছাড়া মানুষের আকুতি
×

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কাটেনি এখনও। সাত দিন আগে ২৬ এপ্রিল রাতে উপজেলায় আঘাত হানে কালবৈশাখী। এতে শতবর্ষী একটি বটগাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক পরিবার।

এই ক্ষতিগ্রস্তদের একজন পৌরসভার মজলিশপুর গ্রামের গোবিন্দ দাস।  বটগাছটির বড় একটি অংশ পড়েছে তার ঘরের ওপর। এতে দুমড়েমুচড়ে গেছে ঘরটি। একটুর জন্য রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। এ ঘটনার ৭ দিন পার হলেও এখনও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন গোবিন্দ দাস।

ক্ষতিগ্রস্ত গোবিন্দ দাস জানান, তিনি দরিদ্র মানুষ। প্রায় ২০ বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার সিদ্ধরপাশা গ্রাম থেকে সর্বস্ব বিক্রি করে ঘরটি কিনে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে একটি দোকানে কাজ করে মাসে ৮-১০ হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে কষ্টে সংসার চলে। ঘরটাই ছিল তার একমাত্র সম্বল। ঝড়ে সেটাও ভেঙে গেছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খোলা আঙিনায় কেটেছে সাত দিন। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। উপড়ে পড়া গাছটি এখনও অপসারণের পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে ঘর মেরামতের সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। তাছাড়া অর্থ সংকটের কারণে সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

গোবিন্দ দাসের স্ত্রী কবিতা রানী দাস বলেন, যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে ওঠার মতো অবস্থায় নেই তার পরিবার। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা অঞ্জনা রানী দাস ও সিদ্দেকা বেগম বলেন, গোবিন্দ দাস প্রকৃত অর্থেই অসহায়। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া তার পক্ষে ঘরটি মেরামত করা সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত গাছটি কেটে সরানো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেঙে পড়া বটগাছটি ওই এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘কালাচাঁন’ হিসেবে পরিচিত। গাছটির নামে প্রায় এক শতক জমিও রেজিস্ট্রি করা ছিল। ঝড়ে গাছটি পড়ে যাওয়ার ৭ দিন পার হলেও এখনও গাছটি কেটে সরানো হয়নি।
এলাকার বাসিন্দা সুয়েদ আমীন জানান, গাছটি পড়ে যাওয়ার পর থেকে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। এতে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত গাছটি অপসারণ করা জরুরি।

কালাচাঁন গাছ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিপদ দাস বলেন, গাছ কাটতে তাদের দিক থেকে কোনো বাধা নেই; বরং প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন সেটি অপসারণের 
জন্য। আর্থিক সহায়তাও পাওয়া গেছে এ কাজে। কিন্তু বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দেবত্বর গাছ হওয়ায় অনেকে কাটতেও আগ্রহী নন। যারা রাজি হচ্ছেন, তারা অনেক বেশি পারিশ্রমিক দাবি করছেন। আর বিক্রি করতে গেলে এতবড় গাছের দাম বলছে মাত্র ৫ হাজার টাকা।
এদিকে, একই গ্রামের দিনমজুর জয়চানও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তিনি জানান, অন্যের জায়গায় কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলেন, ঝড়ে সব শেষ। আবার ঘর তোলার সামর্থ্য নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, গাছ কাটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ না থাকলেও পৌরসভার মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে, বরাদ্দ এলে তাদের সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন

×