আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের বিরোধ, দুর্ভোগ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ
এম, এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৮:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় গত এক বছর ধরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে সংগঠনগত বিরোধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দ্বন্দ্বের কারণে সড়কগুলোতে যান চলাচল গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনা থেকে সংঘর্ষ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আধিপত্য বিস্তার ও সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের কারণে উপজেলার আউশকান্দি-নবীগঞ্জ-বানিয়াচং, শেরপুর-সৈয়দপুর বাজার-ইনাতগঞ্জ ও আউশকান্দি বাজার-সঈদপুর-ইনাতগঞ্জ সড়কে প্রায়ই অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকছে। এসব সড়কে একটি শ্রমিক সংগঠনের অটোরিকশা অপর সংগঠনের নিয়ন্ত্রণাধীন সড়কের প্রবেশ করলেই বিপত্তি বাধছে। প্রতিপক্ষের শ্রমিকরা সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর ও চালককে মারধর করছেন।
চলমান এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট রুটে অটোরিকশা চলাচলে বাধা, ভাড়া বাড়ানো এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে যাত্রীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য, শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
জাহাঙ্গীর নামে এক অটোরিকশা চালক বলেন, সম্প্রতি তিনি ইনাতগঞ্জ গেলে প্রতিপক্ষ সংগঠনের শ্রমিকরা তাঁকে মারধর করে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
আউশকান্দি বেতাপুর গ্রামের মুকিত নামের এক অটোরিকশা চালক জানান, তিনি অটোরিকশা নিয়ে স্থানীয় কামারগাঁও গ্রামে গেলে প্রতিপক্ষ শ্রমিক সংগঠনের লোকজন তাঁকে আটক করে গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে তাঁর অটোরিকশাকে চুরির গাড়ি বলে পুলিশের কাছে দেয় প্রতিপক্ষ।
শেরপুর-সৈয়দপুর বাজার-ইনাতগঞ্জ সড়কের সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ডের ম্যানেজার ও শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজু মিয়া বলেন, শৃঙ্খলার স্বার্থে এই সড়কে রানীগঞ্জের ও ইনাতগঞ্জের ২০টি সিএনজি অটোরিকশা যাওয়ার কথা। কিন্তু ইনাতগঞ্জ ও শেরপুর এলাকার ম্যানেজার অতিরিক্ত গাড়ির টোকন দেওয়ায় গত দুই মাস ধরে সমস্যা হচ্ছে। আমরা তাদের সড়ক সীমানায় যাই না, তারা আমাদের সীমানায় আসে না।
ইনাতগঞ্জ সিএনজি শ্রমিক সংগঠনের ফয়জুর রহমান বলেন, আমাদের সিএনজিগুলোকে সৈয়দপুর বাজার সংগঠন, আউশকান্দি সিএনজি সংগঠন অনৈতিকভাবে আটকে রাখছে। তাদের এলাকায় গেলেই তারা আমাদের চালকদের মারধর করেন। অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। আমরা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ফয়জুর জানান, গত ৮/৯ মাস ধরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। শেরপুর থেকে ইনাতগঞ্জ সড়কের মধ্যবর্তী সঈদপুর বাজার সিএনজি সমিতি গত জুলাই আন্দোলনের পর থেকে আমাদের সমিতি ও শেরপুর সমিতির গাড়ি চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। প্রতি সপ্তাহে এনিয়ে মারামারি হয়। গত মে দিবসে বড় সংঘর্ষ হওয়ার পর আমরা উভয় সমিতিকে ইনাতগঞ্জ আসতে নিষেধ করেছি। প্রশাসনকে জানানোর পরেও বিষয়টি শেষ হচ্ছে না।
আউশকান্দি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সমিতির সভাপতি দিলশাদ মিয়া মেম্বার বলেন, আমাদের সংগঠনের এক শ্রমিকের সঙ্গে ৯ মাস আগে ইনাতগঞ্জের এক সিএনজি চালকের হাতাহাতি হয়। আমরা বিষয়টি সালিশে মিটমাট করে দিলেও পরে ইনাতগঞ্জ সমিতির চালকরা আমাদের সমিতির ২০ জন সিএনজি চালককে মারধর ও চোরাগোপ্তা হামলা করেন। আমরা বারবার চেষ্টা করেও বিষয়টি সমাধান করতে পারছি না।
নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, আমরা শেরপুর ও সঈদপুর সিএনজি অটোরিকশা সমিতির লোকজনকে নিয়ে সালিশি সভা করেছি। শ্রমিক সংগঠনগুলো মধ্যকার বিরোধ সমাধানের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- আধিপত্য বিস্তার
