ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মেয়েটার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে, কিন্তু সেটি হলো না- বললেন বাবা

মেয়েটার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে, কিন্তু সেটি হলো না- বললেন বাবা
×

জান্নাতুন নাঈম ফারিহা। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ২০:২১ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ২১:১৩

‘মেয়েটার অনেক স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু স্বামীর হাতেই তাকে জীবন দিতে হলো। ইঞ্জিনিয়ার হওয়া আর হলো না।’ বুধবার মেয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় এভাবে আহাজারী করে কষ্টের কথা বলছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার বাবা স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ মিয়া।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ২৩ বছর বয়সী ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফারিহার পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ বাসার ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি এখন আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।

প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে ফারিহার। বিয়ের পর হৃদয় বৃত্তি নিয়ে চীন যান এবং পরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ। গত সোমবার ফারিহা বাবার বাড়ি থেকে কুমিল্লা শহরে স্বামীর বাসায় আসেন। একদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

হানিফ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েটাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত হৃদয়। আগেও আমার মেয়েকে মেরে জেল খাটার হুমকি দিয়েছিল।’ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ফারিহার স্বামী ও পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। প্রতিবেশীরা বলেন, ফারিহার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন কোথায় গেছেন তা জানেন না।

সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের বলেন, ‘ফারিহা মেধাবী ও শান্ত ছিলেন। তার এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা মর্মাহত। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার হোক।'

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নিহতের স্বামী পলাতক এবং তাকে আটকের চেষ্টা চলছে বলেন উল্লেখ করেন তিনি।

ওসি জানান, নিহতের পরিবার থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

আরও পড়ুন

×