ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন চলে গেল ফারিহার সঙ্গেই

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন চলে গেল ফারিহার সঙ্গেই
×

জান্নাতুন নাঈম ফারিহা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘মেয়েটার অনেক স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু স্বামীর হাতেই তাঁকে জীবন দিতে হলো। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন রয়ে গেল অধরা।’ আদরের মেয়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় আহাজারি করতে করতে বলছিলেন স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ মিয়া। তাঁর মেয়ে জান্নাতুন নাঈম ফারিহার (২৩) ‘ঝুলন্ত’ মরদেহ গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ির এক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ফারিহা কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে। প্রায় আট মাস আগে মেঘনা উপজেলার মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ফারিহার বিয়ে হয়। হৃদয় স্কলারশিপ নিয়ে চীন যান। সফল হতে না পেরে দেশে ফেরেন। এরপর থেকেই বেকারত্ব ও সংসারের খরচ নিয়ে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। গত সোমবার ফারিহা বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাসায় আসেন। 

মো. হানিফ মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়েটাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত হৃদয়। সে আগেও আমার মেয়েকে মেরে জেল খাটার হুমকি দিয়েছিল। ফারিহার খুব ইচ্ছা ছিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার, কিন্তু পাষণ্ড স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে সেই স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে গেল।’ তাঁর অভিযোগ, ফারিহাকে হত্যার পর সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ আত্মহত্যা করলে তাঁর পা এভাবে বিছানায় লেগে থাকার কথা নয়। কেউ ফাঁসিতে ঝুললে নিচের চেয়ারটিও সরে যাওয়ার কথা।’ এদিন দুপুরে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ফারিহার স্বামী ও পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×