বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বিশাল ফাটল, ঝুঁকিতে ২৫ হাজার মানুষ
পায়রা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বুধবার রাতে দেখা দিয়েছে বিশাল ফাটল। বৃহস্পতিবার বরগুনার তালতলী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়ায় সমকাল
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরগুনার তালতলীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রাম-সংলগ্ন এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ আতঙ্কে আছেন। তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে পায়রা নদীতে পানি বেড়েছে। গত বুধবার রাতে পানির চাপে তেঁতুলবাড়িয়ার কাছে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। তারা ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, ভাঙনের শিকার বাঁধের কিছু অংশ ইতোমধ্যে পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত বাঁধটি সংস্কার করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এতে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজানপাড়া, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম তলিয়ে যেতে পারে। পানি ঢুকে পড়লে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব হাসিনা বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বানডা (বাঁধ) ভাইঙ্গা গ্যালে মোগো কপালডা পুইর্যা যাইবে। বানডা ভাঙবে– হেই ডরে রাইতে ঘুমাই না। বানডা ভাইঙ্গা গ্যালে মোরা পানিতে ডুইব্যা মইর্যা যামু।’
প্রতিবছরই বাঁধ মেরামত হলেও স্থায়ী সমাধান হয় না জানিয়ে একই গ্রামের বাবুল হাওলাদার ও সেলিম মাতবর বলেন, এবার যেভাবে ফাটল ধরেছে, তারা আতঙ্কে ঘুমাতে পারছেন না। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি ঢুকে পড়তে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
গ্রামবাসীকে বাঁচাতে হলে আরও উঁচু বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুন্দর আলী বলেন, ‘ছোড খাডো বান দ্যালে বানডা আবার ভাইঙ্গা যাইবে।’
এই বাঁধের ফাটল দেখে শঙ্কিত নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু মিয়া। ফাটলের ধরন দেখে তিনি মনে করেন, দুয়েক দিনের মধ্যে বাঁধের ওই অংশ পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। বাঁধটি না থাকলে ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে পানিতে ভাসতে হবে। তাই বাঁধটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান।
পাউবো তালতলী উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হিমেল বলেন, তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তালতলীর ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে
তিনি পাউবোর বরগুনা ও তালতলীর কর্মকর্তাদের বলেছেন।
বরগুনার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘বাঁধে ফাটলের বিষয়টি জেনেছি। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর ভাষ্য, স্থায়ীভাবে বিষয়টি সমাধানে ব্লক নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী জমি দিলে তারা রিংবাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেবেন।
- বিষয় :
- বন্যা
