ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে অন্ধকারে ৭৫ গ্রাম

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে অন্ধকারে ৭৫ গ্রাম
×

হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বৈদ্যুতিক খুঁটির সামনে একটি গাছ উপড়ে পড়ে। আক্কেলপুর-বগুড়া সড়ক সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

আক্কেলপুর উপজেলায় হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখীর কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও হেলে পড়েছে। ছিঁড়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার সঞ্চালন লাইন। এতে উপজেলার প্রায় ৭৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ের পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ব্যাপক দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে প্রবল বেগে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতও হয়। তীব্র বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে, কোথাও আবার খুঁটি হেলে গিয়ে পুরো লাইন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে একাধিক ফিডার লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যায় অন্ধকারে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খাদ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। ঝড়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর আক্কেলপুর পৌর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
গণিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মশিউর রহমান জানায়, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পরীক্ষা সামনে, কিন্তু ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না।
আক্কেলপুর পৌর শহরের পালপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমাদের সেকশনে এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। কয়েকটি বাসা পরেই বিদ্যুৎ থাকলেও আমরা অন্ধকারে আছি। সামান্য ঝড় হলেই আমাদের লাইনে সমস্যা হয়। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাইনি। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’
রায়কালী ইউনিয়নের মালীগ্রামের বাসিন্দা আরাম আলী বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। গরমে ছোট শিশু ও বৃদ্ধরাও কষ্ট পাচ্ছে। দ্রুত লাইন সংস্কার করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা দরকার।’

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকে পুরো ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
আক্কেলপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে এবং ট্রান্সফরমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘আক্কেলপুর পৌরসভার আংশিক এলাকা ও রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। দ্রুত মেরামত কাজ চলছে। তবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই দিন সময় লাগতে পারে।’
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন

×