ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শ্রেণিকক্ষে ফাটল, বারান্দায় পাঠদান

মিঠাপুকুরের চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শ্রেণিকক্ষে ফাটল, বারান্দায় পাঠদান
×

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি    

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রেণিকক্ষে দেখা দিয়েছে ফাটল। যে কোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার শঙ্কায় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় ঝুঁকি নিয়ে পড়াতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ চিত্র রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ২০০২ সালে পাকা ভবন নির্মাণের পর ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা, সুরকি খসে পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে। এর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন শিক্ষকরা। সম্প্রতি ফাটল আরও বিস্তৃতি লাভ করে। এক বছর আগে বড় বড় ফাটল তৈরি হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও রংপুর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বিদ্যালয় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। 

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়টি চার কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন। ভবনের একটি কক্ষ শিক্ষকদের জন্য। অন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ভবনের বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে পাঠদান চলছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে দুই শিফটে পালাক্রমে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। 
গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মধ্যে বারান্দায় পাঠদান কার্যক্রম চলছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুমতাহিনা, সামির, ইসামাইল, মিম জানায়, স্কুলে আসতে খুব ভয় লাগে। কখন যে ছাদ ভেঙে পড়ে। বারান্দায় ক্লাস করতেও ভয় পাই। বড়বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বজ্রপাত হয়। এ সময় খুব আতঙ্কে থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা ও সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম জানান, ভবনটির সবগুলো শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। শিশুদের রুমের ভেতরে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।
দাতা সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটতে পারে।’ বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। 
মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি বিদ্যালয়ের বিষয়ে শুনেছি। সেখানে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করাচ্ছেন। নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ স্থানে পাঠদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণ হবে বলে তিনি আশাবাদী। 

আরও পড়ুন

×