কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত, মরদেহ হস্তান্তর
ছবি: সমকাল
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ২১:৩১ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ২১:৪৯
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর এলাকার পাথারিয়াদ্বার-মানিক্যমুড়ি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
নিহত দুই যুবক হলেন— গোপীনাথপুর আলহাজ শাহআলম ডিগ্রি কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ধজনগর বাতানবাড়ি গ্রামের মো. হেবজু মিয়ার ছেলে মুরসালিন মিয়া (১৯) এবং মধুপুর গ্রামের মৃত মরম আলীর ছেলে নবির হোসেন (৪০)।
শনিবার বিকেল পাঁচটায় দুই দেশের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএসএফের গড়িমসিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা ছয়টায়। প্রথমে কলেজছাত্র মুরসালিনের মরদেহ বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। পরে নবির হোসেনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে।
মরদেহ গ্রহণ করেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, চন্ডিদ্বার বিওপি কমান্ডার সুবেদার মইনুদ্দিন ও কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা। এ সময় ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪৯ বিএসএফের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার। পরে বিজিবি মরদেহ দুটি কসবা থানার কাছে হস্তান্তর করে।
কসবা থানার ওসি জানান, যেহেতু ভারত তাদের ময়নাতদন্ত করেছে, তাই নিহতদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় ভারতীয় সীমান্তের ভেতরও কয়েকশ সাধারণ নাগরিক, পুলিশ ও বিএসএফ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ৬০ বিজিবির অধিনায়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১৫ জন চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় শুক্রবার রাতে ধজনগর এলাকার পাথারিয়াদ্বার সীমান্তের ২০০ গজ ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ভারত থেকে চোরাচালানি মালামাল নিয়ে আসার সময় বিএসএফ-এর টহল দল তাদের বাধা প্রদান করে। এ সময় বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা বিএসএফের ওপর চড়াও হয় এবং বিএসএফের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিদের ওপর বিএসএফ দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। তারা দুজনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের হাসপাতালে মারা যান।
নিহত নবির হোসেনের ভাগিনা ইয়াসিন (২৫) জানান, তার মামা একজন অটোরিকশাচালক। অভাবের তাড়নায় রাতে শ্রমিক হিসেবে সীমান্তে কসমেটিকস ও অন্যান্য মালামাল পারাপার করতেন। ওই রাতে ৩০-৩৫ জনের একটি দল মালামাল আনার সময় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তার মামা নবির হোসেন মারা যান।
তিনি জানান, তার মামার কোনো সহায়-সম্পদ নেই। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকতেন।
- বিষয় :
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- বিএসএফ
- বাংলাদেশি নিহত
