যবিপ্রবি
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ২৩:১৭ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ২৩:১৮
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা সফরে গিয়ে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ শনিবার দুপুরে ডিন্স কমিটির আহ্বায়ক ইমরান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার তথ্য কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, এক শিক্ষার্থীর যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির দুজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তদন্ত চলাকালে গণমাধ্যমে কথা বলা নিষেধ রয়েছে।
শিক্ষা সফরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মনিরুল ইসলাম দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগে ওঠে।
জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে নেওয়া হয়। বিভাগের প্রভাষক মনিরুল ইসলামসহ অন্য শিক্ষকরাও তাতে ছিলেন। সেখানেই এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে প্রভাষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের কাছ থেকে সাধারণ মুচলেকা নিয়ে ঘটনাটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিন্দা ও প্রতিবাদে সরব হন। এর পরই কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানার জন্য পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা ছিল, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন না। শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ মেনে নিয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ ওই শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকাতে এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতেও রাজি হননি।
