ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যানজটে ভোগান্তি
টাঙ্গাইল শহরে রাস্তার পাশেই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান রেখে পণ্য ওঠানামা করছেন চালকরা সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলে কোনো ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র ট্রাক রাখা হচ্ছে। সড়কে ট্রাক রেখে পণ্য ওঠানামা করা হচ্ছে। এসব কারণে যানজটের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে দাবি জানিয়ে এলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে টাঙ্গাইলে নির্মিত হয়নি ট্রাকস্ট্যান্ড। ফলে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করায় শহরে যানজট বাড়ছে। আবার অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে চালকদের। এছাড়া নিরাপত্তার অভাবে চালকরা থাকেন ঝুঁকির মুখে।
টাঙ্গাইল ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে ডাম্প ট্রাক, মিনিট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ছোট-বড় মালবাহী মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার ট্রাক রয়েছে। এসব ট্রাক রাখার নির্ধারিত কোনো স্থান নেই। স্টেডিয়াম এলাকা, পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বর, পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের সামনে, গোডাউন ব্রিজ, শহর বাইপাস রাবনায়, নগর জলফই, ছয়আনি পুকুরপাড়, বেবিস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন রাস্তার ওপরে মালবোঝাই ট্রাক রাখা হয়। রাস্তার ওপরে পণ্য ওঠানামা করায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এছাড়া ঠিকানাবিহীন হয়ে পড়েছেন টাঙ্গাইলের ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডের দাবি করে এলেও তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা হচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতাদের অবহেলাও রয়েছে। টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক কাওছার জহুরা ট্রাক ও বাস টার্মিনালের জন্য শহর বাইপাস রাবনায় ১৭ একর জায়গা গণপূর্তের কাছ থেকে ১ নম্বর খাস খতিয়ানে এনেছিলেন। তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সাবেক জেলা প্রশাসক নুরুল আমীন মিঞা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। বাস টার্মিনালের জন্য দরপত্র আহ্বান করে মাটি ভরাট শুরু হলেও ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য জমি বরাদ্দ অধরাই রয়ে গেছে।
ট্রাকচালক মির্জা মজনু জানান, টার্মিনাল না থাকায় রাস্তাঘাটে গাড়ি রাখতে হয়। তাদের বিশ্রামের কোনো জায়গা নেই। পয়ঃনিষ্কাশন, গোসল ও নামাজের কোনো স্থান নেই। রাস্তায় গাড়ি রাখলে পুলিশ এসেই মামলা দেয়। নানাভাবে হয়রানি করে। নিরাপত্তার অভাবে শহরের বাইরে গাড়ি রাখা যায় না। অনেক সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে হয়।
ট্রাক মালিক হোসেন আলী বলেন, টার্মিনাল না থাকায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনে গাড়ি রাখতে হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় কোনো অনুষ্ঠান থাকলে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিছু দিন আগে এখান থেকে ঈদগাহ ময়দানে সরিয়ে দেয়। ঈদগাহ ময়দান থেকে আবার স্টেডিয়ামের কাছে নিয়ে আসা হয়। এখানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বরে কিছু ট্রাক রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে এখানে গাড়ি রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ড না থাকায় বাধ্য হয়েই কয়েকজন নেতাকে বখরা দিয়ে গাড়ি রাখতে হচ্ছে।
স্টেডিয়াম সংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর খানের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালের দাবি করে আসছেন তারা। টার্মিনাল না থাকায় তাদের শ্রমিকরা খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। মাঝে-মধ্যেই গাড়ি চুরি অথবা ছিনতাই হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পার্ক করায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক গাড়িতে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বালা মিয়া বলেন, টার্মিনালের দাবি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আজও ট্রাক টার্মিনাল বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শহরবাসী ও ট্রাক শ্রমিক সবাইকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে নেতাদের সদিচ্ছা ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে নির্মিত হচ্ছে না ট্রাকস্ট্যান্ড।
জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলী জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শহর বাইপাস রাবনায় বাস টার্মিনালের সঙ্গে ট্রাকস্ট্যান্ড ও করা হবে।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলে ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় অবৈধ পার্কিং করাটা ট্রাক চালকরা স্বাভাবিক নিয়ম ধরে নিয়েছেন। জেলা ট্রাফিক বিভাগ এই বিষয়ে সদা তৎপর এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। দীর্ঘদিন হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিটি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ট্রাকস্ট্যান্ডের বিষয়ে অবগত আছেন এবং অচিরেই শহরবাসী সুফল পাবেন বলে আশা করছেন তারা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সফিকুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল একটি বড় শহর। এখানে পৃথক একটি ট্রাকস্ট্যান্ডের প্রয়োজন। শহর বাইপাস রাবনায় যেখানে বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখানে ট্রাকস্ট্যান্ড করার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে পাশেই কোথাও ট্রাকস্ট্যান্ড করা যায় কিনা বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে।
- বিষয় :
- ট্রাক
