ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: আদালতে জামিন চাইতে এসে কারাগারে স্বামী

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: আদালতে জামিন চাইতে এসে কারাগারে স্বামী
×

জান্নাতুন নাঈম ফারিয়া ও মেহেদী হাসান হৃদয়

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৬:৫৬ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৮:২৪

কুমিল্লার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাবার দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়। এ সময় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আজ রোববার ১নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল হকের আদালত মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে কারাগারে পাঠান। এ সময় মামলার অপর চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম। তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে ফারিয়ার স্কুলশিক্ষক বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে ফারিয়ার স্বামী হৃদয়, তার বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম এবং বোন রীমা আক্তার ও তার স্বামী জাকারিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করেন। এ মামলায় আসামিরা আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত হৃদয়কে কারাগারে পাঠান এবং অপর চারজনের জামিন দেন।  

এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোটের দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে। 

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লার সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে ফারিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এর পর থেকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। এতে ফারিয়ার পরিবার টাকা দিতে না পারায় পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার ফারিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। 

ফারিয়ার বাবার ভাষ্য, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আসামিরা হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯-এ কল করে। আজ প্রধান আসামি হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর খবর জেনেছি। তাকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।’ 

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার সমকালকে বলেন, ‘ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি হৃদয় জামিন চাইতে আদালতে হাজির হন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে আবেদন জানানো হবে।’

আরও পড়ুন

×