ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, ৯০ গর্তে দুর্ভোগ অবর্ণনীয়
টানা বৃষ্টিতে ধসে যায় ‘মওলানা ভাসানী সেতু’র চিলমারী অংশের সংযোগ সড়কের বেশ কিছু অংশ
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ২০:৫৬
কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ‘মওলানা ভাসানী সেতু’র চিলমারী অংশের সংযোগ সড়কের উন্নয়ন কাজ এখনও শেষ হয়নি। ধীরগতির কারণে বৃষ্টিতে সদ্যনির্মিত সড়কের দুই পাশে প্রায় ৯০টি ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। এ নিয়ে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়রা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, পাঁচপীর বাজার থেকে চিলমারী হেডকোয়ার্টার সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ‘মওলানা ভাসানী সেতু’র সংযোগ সড়ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে উপজেলার মাটিকাটা মোড় থেকে পাঁচপীর জিসি সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নকাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পের কাজ পান নাটোরের মীর হাবিবুল আলমের লাইসেন্স ব্যবহারকারী রৌমারীর ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম।
প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকার চিলমারী অংশ ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে প্রায় ৯০টি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের খাদ তৈরি হওয়ায় ভারী যানবাহন, রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল–এমনকি পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাকচালক জোনাব আলী বলেন, ‘রাস্তাটার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল করতে ভয় লাগে। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সিএনজি অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়। দ্রুত সংস্কার দরকার।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবার রহমান বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার এমন অবস্থা হওয়া দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার রাশেদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু সাড়া মেলেনি।
উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
