ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য
×

 রংপুর অফিস

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ব্যয়-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সমকালে গত ৭ মে ‘নিয়োগপ্রার্থী নিজেই আবেদন যাচাইকারী’ এবং ৮ মে ‘বাংলোয় থেকে বাড়ি ভাড়া গ্রহণ, তহবিলের টাকায় স্ত্রীর শাড়ি’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। নিচে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

দাবি ও প্রতিবেদকের বক্তব্য তুলে ধরা হলো:
১. আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য নিজেই প্রার্থী
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির কোনো সদস্য যদি নিজেই কোনো পদের প্রার্থী হন, তবে তিনি নিজের আবেদন যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকেন। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পদ্ধতি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ময়নুল আজাদ এবং উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম– দুজনই আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ছিলেন এবং নিজেরা সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাদের প্রস্তুত করা তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে নিজেদের আবেদনের (ক্রমিক ৪ ও ৮) মন্তব্য কলামে ‘সুপারিশকৃত’ লিখে তারা নিজেরাই স্বাক্ষর করেছেন। ফলে নিজেদের আবেদন যাচাইয়ের সময় তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বিরত ছিলেন– এ দাবি সঠিক নয়।
২. অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণে আইন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেলে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত পদের জন্য ১২ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৩ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণ করেছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল বিষয় ছিল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হয়েছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী [ধারা ২৩(২)(১)(ঝ)] নিয়োগের শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের। সিন্ডিকেটের ১০৩তম ও ১১১তম সভার সিদ্ধান্ত ছিল, এসব পদে যেতে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা

লাগবে। কিন্তু নিয়োগ 
বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এ অসংগতি উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিনুর রহমান রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সমকালের প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ তা-ই তুলে ধরা হয়েছে। 
প্রতিবাদপত্রে আইন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
৩. ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিয়োগের জন্য যে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, তাতে চতুর্থ গ্রেডের পদের জন্য ন্যূনতম ১৩ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই নীতিমালার আলোকে শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
ইউজিসির ওই নীতিমালা এখনও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় অনুমোদিত হয়নি বলে ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান মোবাইল ফোনে গত মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, স্বাক্ষরবিহীন খসড়া নীতিমালাটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তা ছাড়া কোনো নিয়োগ বা পদোন্নতি নীতিমালা কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন আবশ্যক।
৪. বাংলোয় থেকে বাড়ি ভাড়া গ্রহণ
প্রতিবাদপত্রে দাবি করা হয়, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ের বিপরীতে যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন, আর্থিক নথিপত্র ও প্রামাণ্য দলিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সংরক্ষিত আছে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলোয় অবস্থান করেছেন। তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর-রশিদও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু নথিপত্রে দেখা যায়, এই সময় তিনি মাসওয়ারি বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদপত্রে নিচের অভিযোগগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তবে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে তদন্ত সংস্থা বা গণমাধ্যমের কাছে এসব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। 
এতে বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে। এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। 

প্রতিবেদকের বক্তব্য
সমকালের প্রতিবেদনে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, সেগুলোর বিষয়ে প্রতিবাদপত্রে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। নিচে এমন দুটি উদাহরণ দেওয়া হলো: 
১. গবেষণা প্রকল্প থেকে সম্মানী গ্রহণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী উপাচার্য ও ট্রেজারার– দুটি পদের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্প থেকে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করেন এবং সম্মানী হিসেবে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। 
২. জ্বালানি ব্যয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের নথিতে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপাচার্যের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িতে ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ট্রেজারারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িতে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার জ্বালানি ব্যবহার হয়েছে। ট্রেজারারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটি উপাচার্যের পরিবারের লোকজন ব্যবহার করেছেন।

আরও পড়ুন

×