হাওরপারের রাস্তা খুঁড়ে ঠিকাদার উধাও, বোরো ধান বহনে দুর্ভোগ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামে খুঁড়ে রাখা সড়ক। গত মঙ্গলবার তোলা সমকাল
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় হাওরপাড়ের একটি রাস্তা খুঁড়ে কাজ শেষ না করেই উধাও হয়ে গেছেন ঠিকাদার। এতে বোরো ধান পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। ধান বাজারে নিতে না পারায় হাওরেই পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের পূর্বদিক থেকে পশ্চিমে উকিল বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা ঢালাই কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় তিন-চার বছর আগে। দুই কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির কার্যাদেশ পান মদন উপজেলার ঠিকাদার এম এ ওয়াহেদ। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে রাস্তা খুঁড়ে তাতে বালু ফেলে ভরাট করার পর কয়েক ধাপে সুরকি ফেলে ম্যাকাডোম শেষে দেড় ইঞ্চি পিচ ঢালাই করার কথা।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখে কয়েক মাস আগে রাস্তার কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। প্রথমে রাস্তা খুঁড়ে স্থানীয় আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে বালু ফেলে ভরাট করার দায়িত্ব দিয়ে দায় সারেন। পরে আল আমিন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রাস্তাটি ভরাট করার চেষ্টা করেন। ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়রা বালু উত্তোলনে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বৃষ্টি শুরু হলে খুঁড়ে রাখা রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে হাওরের বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ধান নিয়ে বাজারেও যেতে পারছেন না তারা।
গ্রামবাসী জানান, ফাগুয়া গ্রাম থেকে উকিল বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্তায় উঠতে হয় এই খুঁড়ে রাখা রাস্তা দিয়েই। রাস্তাটি খুঁড়ে রাখায় ধান নিয়ে কোনো কৃষক বাজারে যেতে পারছেন না। ফলে হাওরেই পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঠিকাদার আর প্রকৌশলীদের এমন খামখেয়ালিপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ফাগুয়া গ্রামের কৃষক মিনহাজ মিয়া বলেন, ফাগুয়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের হাওর থেকে বোরো ধান কেটে ঘরে তোলা, বাজারে নিয়ে বিক্রি করার এটিই একমাত্র রাস্তা। এমনিতেই ধান পানিতে তলিয়ে গেছে শ্রমিকের অভাবে ধান ঠিকমতো কাটতে পারেননি। এখন রাস্তার এই অবস্থার কারণে কাটা ধানও বাড়িতে নেওয়া যাচ্ছে না। বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন সেই অবস্থাও নেই। বাধ্য হয়ে হাওরেই পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ঠিকাদারের অবহেলায় গ্রামের কৃষকদের দুর্ভোগ বেড়ে গেল। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
কৃষক রবিউল তালুকদার জানান, কয়েক মাস ধরে রাস্তা খুঁড়ে রেখে ঠিকাদার আর খবর নিচ্ছেন না। স্থানীয় আল আমিন নামে একজন পাশের নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রাস্তা ভরাট করে দেবেন সেই আশায় ছিলেন ঠিকাদার। বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেন এলাকার লোকজন। পরে রাস্তায় আর কোনো কাজ করেননি ঠিকাদার। খুঁড়ে রাখা রাস্তার কারণে হাওর থেকে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না গ্রামের কৃষকরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি খুঁড়ে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। তারপর আর তাদের দেখা নেই। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। রাস্তার কারণে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ধান বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন, সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।
ঠিকাদার এম এ ওয়াহেদের ভাষ্য, বালু সংকটে রাস্তার কাজ করা যাচ্ছে না। এখন আবার বৃষ্টি বাদল হচ্ছে। স্থানীয় একজন বালু দেওয়ার কথা থাকলেও সময় মতো বালু দিতে পারেননি। তাই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি কমলে বালু সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হবে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইকরামুল হোসেন বলেন, তাদের না জানিয়ে বৃষ্টি শুরুর আগেই ঠিকাদার রাস্তাটা খুঁড়েছেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে আর কাজ করতে পারেননি।
স্থানীয় আল আমিন নামে এক ব্যক্তি নাকি বালু দিতে চেয়েছিলেন। কী যেন সমস্যার কারণে আর বালু দিতে পারেননি। তাই রাস্তাটি ভরাট করতে পারেননি। রাস্তাটিতে দ্রুত বালু ভরাটসহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- দুর্ভোগ
