ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শিশু ফাহিমা হত্যায় অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে ফের হামলা-ভাঙচুর

শিশু ফাহিমা হত্যায় অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে ফের হামলা-ভাঙচুর
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ২১:৩০

সিলেট মহানগর এলাকার জালালাবাদ থানার সোনাতলায় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাকির হোসেনের বাড়িতে আরেক দফা হামলা ও ভাঙচুর করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। 

হামলার সময় দেখা গেছে, ৪০-৪৫ জন লোক মিলে আধাপাকা বাড়িটি ভাঙচুর করছে। পুলিশ তাদের নিষেধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়।  

এর আগে গত ১১ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমবার তার বাড়ি ভাঙচুর করে এলাকার লোকজন।

জানা গেছে, ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার ও জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে শুক্রবার দুপুরে মানববন্ধন করেন বৃহত্তর সোনাতলা এলাকাবাসী। প্রায় একই সময়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন গ্রেপ্তার হওয়া জাকিরের ভাই জয়নাল আবেদিন জয়। তিনি তাদের বাড়ি ভাঙচুরে ক্ষতি হয়েছে দাবি করে উল্লেখ করেন— ‘আমার ঘর আমাদের আশ্রয়স্থল, কারা বা কে ভাঙচুর করেছেন, এটা তো কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক, আমিও চাই। আমার ঘর যারা ভাঙচুর করেছে, লুটপাট করেছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।’ 

তিনি আরও লেখেন, ‘ঘরের ভিতরে ৬০ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে, নগদ টাকা রয়েছে ৮ লাখ টাকা, ঘর বানাতে লেগেছে আরও ২০ লাখ টাকা। আমার ক্ষতি হয়েছে, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

ফেসবুকে জাকিরের ভাইয়ের এমন পোস্টের পর আরেক দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে এলাকার লোকজন। 

সোনাতলা গ্রামের রাইসুল হকের মেয়ে ফাহিমা আক্তারকে খুনের অভিযোগে ১১ মে গ্রেপ্তার করা হয় সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার তোতা মিয়ার ছেলে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে। 

পরদিন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। 

পুলিশ জানায়, শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত জাকির।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এলাকার লোকজন দুপুরে মানববন্ধন করে। পরে তারা অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে হামলা করে।  

আরও পড়ুন

×