সিলেটে অভিযুক্তের বাড়িতে দ্বিতীয় দফা ভাঙচুর
সিলেটের জালালাবাদে শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার জাকিরের বাড়িতে হামলা সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট মহানগর এলাকার জালালাবাদ থানার সোনাতলায় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাকির হোসেনের বাড়িতে আরেক দফা হামলা ও ভাঙচুর করেছেন এলাকাবাসী।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে মানববন্ধন চলার সময় জাকিরের ভাই ফেসবুকে বাড়ির ক্ষতি নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর এলাকার লোকজন আবার বাড়িতে হামলা করেন। ওই সময় দেখা গেছে ঘরের টিনের ওপর উঠে ভাঙচুর ও টিন খুলে ফেলছে তারা। ৪০ থেকে ৪৫ জন লোক মিলে আধাপাকা বাড়িটি ভাঙচুর করছে। পুলিশ তাদের নিষেধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে লোকজন ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন। এর আগে গত ১১ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমবার বাড়ি ভাঙচুর করেন এলাকার লোকজন।
জানা গেছে, ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার ও জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে গতকাল দুপুরে মানববন্ধন করেন সোনাতলা এলাকাবাসী। প্রায় একই সময়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন গ্রেপ্তার হওয়া জাকিরের ভাই জয়নাল আবেদিন জয়। তিনি তাদের বাড়ি ভাঙচুরে ক্ষতি, তাদের আশ্রয়স্থল কারা কে বা ভাঙচুর করে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি বলেন, এটা মানুষের কাজ হতে পারে? এ সময় তিনি নাম উল্লেখ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস জানাজানি হলে জুমার নামাজের পর এলাকার মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আরেক দফা বাড়ি ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানিয়েছেন, এলাকার লোকজন দুপুরে মানববন্ধন করেন। পরে তারা অভিযুক্ত জাকির বাড়িতে হামলা করেন। পুলিশ তাদের বুঝানোর চেষ্টা করলে তারা উল্টো মারমুখী হয়ে উঠে।
সোনাতলা গ্রামের রাইসুল হকের মেয়ে ফাহিমা আক্তারকে খুনের অভিযোগে ১১ মে গ্রেপ্তার করা হয় সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার তোতা মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনকে। পরদিন মহানগর পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে খুনের ঘটনা ও জাকিরের সম্পৃক্ততা তুলে ধরে।
পুলিশ জানায়, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে সিগারেট এনে দিতে পাঠায় জাকির। নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটি অজ্ঞান হলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখে। পরে পাশের ডোবায় মরদেহ ফেলে দেয়। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে জাকির।
- বিষয় :
- হত্যা
