বাড়াদি পশুর হাট
দিনে বিক্রি ৩-৪ হাজার ছাগল-ভেড়া
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য আনা ভেড়া ও ছাগল। গতকাল শনিবার দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাড়াদি হাটে সমকাল
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। পশু কোরবানির জন্য আনাগোনা বাড়ছে মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাড়াদি বাজারসংলগ্ন ছাগলের হাটে। সপ্তাহের বুধবার ও শনিবার প্রায় দেড়শ বছর ধরে এখানে হাট বসে আসছে। এ হাটের বড় আকর্ষণ মেহেরপুরের ছাগল, যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘ব্ল্যাকবেঙ্গল গোট’ হিসেবে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে এই ছাগলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ কারণে প্রতি হাটে বিক্রেতারা নিয়ে আসছেন ৬-৭ হাজার ছাগল ও ভেড়া। হাটসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব পশুর মধ্যে তিন-চার হাজার বিক্রি হয়ে যায়।
গতকাল শনিবার এ হাটে আটটি ভেড়া নিয়ে এসেছিলেন জেলার মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের খামারি আরমান শেখ। তিনি কোরবানির জন্য ৬০টি ভেড়া পালন করেছেন। আগের তিনটি হাটে ৩৪টি ভেড়া বিক্রি করেছেন আট লাখ ৯০ হাজার টাকায়। শনিবার দুটি বিক্রি করেছেন ৫২ হাজার টাকায়। অন্যগুলোও ঈদের আগেই বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।
একই উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের কৃষক সজিবুল ইসলাম শনিবার চারটি খাসি নিয়ে এসেছিলেন। তিনটি বিক্রি করেছেন এক লাখ ৭ হাজার টাকায়। সজিবুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর কোরবানি সামনে রেখে আটটি করে খাসি পালন করেন। হাটে বিক্রির পর আরও আটটি ছাগলছানা কেনেন। বাড়তি টাকার কিছু খরচের জন্য রেখে গরু কেনেন। তাঁর বাড়ির নারীরাই মূলত এসব পশু দেখাশোনা করেন। তিনি শুরু খাবার ও চিকিৎসায় সহায়তা করেন। আগের বুধবারের হাটেও দুটি খাসি বিক্রি করেন ৭৮ হাজার টাকায়। শনিবার যে খাসিটি দিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন, সেটি ৩৮-৪০ হাজার টাকা হলে বিক্রি করবেন। বড় আকারের এসব খাসির ক্রেতা মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বেপারিরা। স্থানীয়ভাবে এসব খাসির ক্রেতা কম বলেও জানান তিনি।
এদিন গাংনী উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী জোবায়ের আহাম্মেদ হাট ঘুরে ২৪ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ব্ল্যাকবেঙ্গল জাতের ছাগল কেনেন। মেহেরপুর পৌর এলাকার মো. শফিউদ্দিন ১৮ হাজার টাকায় একটি ছাগল কিনেছেন। তিনি জানালেন, হাটে ওঠা ছাগলের দাম ১৪-১৫ হাজার থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকার মধ্যে। আরেকটি ছাগল বোনের জন্য কিনতে খোঁজাখুঁজি করছিলেন।
মেহেরপুর পৌর এলাকার ছাগল ব্যাবসায়ী মো. আব্দুল হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে এই হাটে প্রচুর পরিমাণে ছাগল উঠছে। ছোট ও বড় আকারের ছাগলের দাম নাগালের মধ্যে। তবে মাঝারি আকারের ছাগলের দাম চড়া। তারা এখান থেকে কিনে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য হাটে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ঈদের সময় একটু বাড়তি আয়ের জন্য নাওয়া-খাওয়ায় অনিয়ম হয়। তবে লাভের জন্য এটুকু করতেই হয়।
ঢাকার বেপারি শরিফুল ইসলাম তিন সহযোগীকে নিয়ে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি হাট থেকে দেড় থেকে দুইশ ছাগল কিনে পিকআপে করে নিয়ে যাই। আমাদের আয়-রোজগারের একমাত্র পথ এই বাড়াদি হাট। এখানে একটি ঘর ভাড়া নেওয়া আছে। অংশীদারদের কেউ না কেউ এখানে থাকেন। এখানে সব ধরনের ছাগল বিক্রি হয় বলে আমরা পছন্দ অনুযায়ী কিনতে পারি।’
বাড়াদি হাটের ইজারাদার আজমল হোসেন মিন্টু বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতি হাটে ছাগল-ভেড়া আসছে ৬-৭ হাজার। বিক্রি হয় ৩-৪ হাজার। কোরবানির জন্য সাধারণত বাইরের বেপারিরা ভেড়া কেনেন। স্থানীয় লোকজনের ভেড়া কোরবানির প্রবণতা কম। নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের নেওয়া ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে, এবার মেহেরপুরে কোরবানিযোগ্য ছাগলের চাহিদা ৪৭ হাজার ৫৩০টি। তবে উপযুক্ত ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত আছে এক লাখ ১৮ হাজারটি। এর মধ্যে অন্তত চার হাজারই ভেড়া।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিটি হাটে তারা মেডিকেল টিম বসিয়েছেন। ক্রেতারা চাইলে স্টেরওয়েড বা হরমোন পরীক্ষায় তাদের সহায়তা
নিতে পারেন। বেশকিছু পশু পরীক্ষা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্টেরওয়েড বা হরমোন দিয়ে মোটাতাজা করা ছাগল বা ভেড়া পাওয়া যায়নি।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. জামিনুর রহমান খান বলেন, জেলার সব হাটেই পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। জাল নোট শনাক্তে মেশিন বসানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা নগদ টাকা পরিবহনে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা পাচ্ছেন।
- বিষয় :
- ছাগল
