প্রতিবছর ৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান: সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল
শেখ রবিউল আলম
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১৬:২০ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১৬:২১
সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হওয়া আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা এবং জাতীয়, অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্ট। সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতি বছর সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।
আজ রোববার দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেল আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ ও সড়ক দুর্ঘটনারোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যে দুর্ঘটনা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটেছিল সেটি নিয়ে বেশ কিছু কথা হয়েছে। এটি নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল এবং তদন্ত রিপোর্ট ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। এই দুর্ঘটনা চালক এবং ত্রুটিযুক্ত যানের কারণে হয়েছে। গাড়িটি ঠিকই দাঁড়ানো ছিল। গাড়িটি চলার কোনো কারণ ছিল না। কারণ, ফেরি প্রস্তুত ছিল না গাড়ি তোলার জন্য। ফেরি ল্যান্ডিং হয়নি। এরকম একটি সময়ে গাড়ি চলতে শুরু করে কোনো কারণ ছাড়াই। চলার পর আর গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করা গেল না।
তিনি বলেন, আমরা তদন্তে দেখেছি, গাড়িটিকে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। অর্থাৎ, চালক গাড়ি চালাতে শুরু করলেন, গাড়িটিকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। ত্রুটিযুক্ত যান, চালকের অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অসচেতনতাইই এ দুর্ঘটনার কারণ এবং সেভাবেই চিহ্নিত হয়েছে তদন্তে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনাই হয় চালকের অদক্ষতা আর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। আর একটি কারণ হলো যানবাহনগুলো ত্রুটিযুক্ত। চলার মতো অবস্থায় থাকলেই মালিক সেটা চালাচ্ছে। জনগণের অসচেতনতার জন্যও দুর্ঘটনা হয়। একই সড়কে বিভিন্ন যান চলাচলের কারণেও দুর্ঘটনা হয়। আমরা সরকার থেকে চেষ্টা করছি এসব বিষয়ে সচেতন করার।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটা কথা উঠেছে- পন্টুন একটু উঁচু হলে বাস নদীতে পড়ত না। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে, বাসটির ওখানে যাওয়ারই কথা নয়। তারপরও বিষয়টিকে আমলে নিয়ে পন্টুনের উচ্চতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি আছে সেটা অস্বীকার করছি না। আমাদের অবকাঠামোগতও সীমাবদ্ধ আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিরাপদ সড়ক যাত্রা, নৌযাত্রা বা রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে পারিনি। কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ চলমান আছে। সড়ক দুর্ঘটনারোধে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায়। সেখানে চালকদের প্রশিক্ষণ, নানান রকম পরীক্ষা, মাদকাসক্ত কিনা এসব চিহ্নিত করা হবে। প্রায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্কুল বা বাজার এলাকায় এসব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। গত ঈদে যে ঘটনা ঘটেছে তা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে আর কোনো প্রাণ দিতে না হয় সে চেষ্টা আমাদের করে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।
অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী জেলায় বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, আহতদের ৬২ জনের পরিবারকে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী রাজবাড়ী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আজাদী ময়দান পরিদর্শন করেন।
- বিষয় :
- রাজবাড়ী
