কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে চরখারজানি এলাকায় ঝড়ে বিধ্বস্ত বাড়ি সমকাল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। সোমবার ভোরে জেলার সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র ঝড়ে মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় জনপদ। ঘরবাড়ি হারিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন অসংখ্য পরিবার। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
ভোরে সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়ন এবং ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নে তীব্র বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবেই কামারজানীর খারজানী চর, ফজলুপুর ইউনিয়ন, এড়েন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বুলবুলির চর ও চর চৌমুহনী এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
কামারজানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ঝড়ে ৪২টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। আহত হয়েছেন দুজন।’ তিনি জানান, নদী তীরবর্তী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা ৫০ হাজার টাকা ঝড়ে উড়ে পানিতে পড়ে যায়। পরে জাল ব্যবহার করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত খারজানী চরের বাসিন্দা আকলিমা বেগম বলেন, ‘ঝড়ে ঘরবাড়ি, টাকা-পয়সা, কাপড়চোপড় সব উড়ে গেছে।’
ফুলছড়িতে চার শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ফজলুপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের চার শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত টিন ও নগদ সহায়তা দেওয়ার দাবি উঠেছে।
এড়েন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের চরাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা জায়গায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গোটা সুন্দরগঞ্জ উপজেলাও। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল, দোকানপাট ও বসতঘর। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং ছিঁড়ে যায় সঞ্চালন লাইন। ফলে সকাল থেকেই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের ৫০০ পরিবার, সদর উপজেলার কামারজানির চর খারজানিতে ৪২ পরিবার এবং বুলবুলির চর ও ফজলুপুরে দুই শতাধিক পরিবারকে তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- ঝড়
