চট্টগ্রাম নগর
গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তরুণদের ধস্তাধস্তি
গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ ভিত্তিহীন: মেয়র
চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে এক দল শিক্ষার্থী গ্রাফিতি আঁকার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান- সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৯:০৮ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ১১:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা ইস্যুতে চট্টগ্রাম নগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছেন বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল সোমবার নগরীর প্রধান সড়ক বহদ্দারহাট-পতেঙ্গা সড়কের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ও আশপাশের এলাকায় জনসমাবেশ, মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে ওয়াসিম ফ্লাইওভারের পিলারে গ্রাফিতি অঙ্কন উদ্বোধন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গতকাল দুপুর ২টার দিকে টাইগারপাস এলাকায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার জন্য যান বেশ কয়েক তরুণ-তরুণী। তাদের হাতে ছিল রঙের পাত্র ও তুলি। তাদের সঙ্গে ছিলেন আরও কিছু নারী-পুরুষ। নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জুলাইযোদ্ধা বলে পরিচয় দেন তারা। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের দাঁড়াতে দেননি। কয়েকজন রংতুলি নিয়ে সড়কে বসে পড়লে তাদেরও জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফায় বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ে রং লেগে যায়। শিক্ষার্থীদের পোশাকেও রং লাগে।
পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সামনে আনা হলেও এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যদের গায়ে রং ছুড়ে মারা হয়নি। ধস্তাধস্তির ফলে তাদের গায়ে রং গিয়ে পড়ে। এসব ঘটনার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে। তবে কিছু সময় পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, জুলাই গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। এ জন্য তারা বিচার নিয়ে যান নগরীর দামপাড়ায় নগর পুলিশের সদরদপ্তরে পুলিশ কমিশনারের কাছে। নগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, নগরে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কাজে পুলিশের কোনো বাধা নেই। এর আগে রোববার চট্টগ্রাম নগরীর শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের পিলারে আঁকা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্দেশে গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়। সে জন্য তারা দায়ী করেন চসিক মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে। প্রতিবাদে সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখের সামনে ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিএমপি কমিশনার হাসানের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জনমাবেশ, মিছিল ও সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে জারি করা সিএমপি কমিশনারের গণবিজ্ঞপ্তিকে ‘হাসিনা স্টাইলের’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে। ফলে বিএনপি গ্রাফিতি মুছে ফেলবে, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না।’
চলমান পরিস্থিতিতে গতকাল চসিক কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করেন। মেয়র বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নান্দনিক গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে বলে জানান ডা. শাহাদাত। এ জন্য সিটি করপোরেশন যদি টাকা দিতে না পারে, তাহলে নিজের পকেটের টাকায় এই কাজ করার কথাও বলেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘অনেকে গ্রাফিতি বা নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও আহত জুলাইযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কষ্টের কথা খুব কম মানুষই ভাবছে। গত ৩ আগস্ট আমার নিজের বাড়িতে আগুন ও বোমা হামলা চালানো হয়েছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে সভা-সমাবেশে পুলিশের পক্ষ থেকে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য নিজের পক্ষ থেকে নগর পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান মেয়র।
- বিষয় :
- গ্রাফিতি
- পুলিশ
- চট্টগ্রাম
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান
