ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী এক বছর ধরে খেলাধুলা বন্ধ

বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী এক বছর ধরে খেলাধুলা বন্ধ
×

নান্দাইলের কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এক বছর ধরে নির্মাণসামগ্রী রেখে ওয়াশ ব্লকের কাজ করছেন ঠিকাদার সমকাল

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৭:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

নান্দাইল উপজেলার কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব ৫০ শতক জমিতে দুটি ভবন। সামনে মাঠ বলতে সামান্য একটু জায়গা। এর পরেই ২৫ শতক জায়গায় একটি পুকুর। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ওই সামান্য মাঠে এক বছর ধরে নির্মাণসামগ্রী রেখে ওয়াশ ব্লকের কাজ করছেন ঠিকাদারের লোকজন। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের রডও রাখা হয়েছে শ্রেণিকক্ষে। এই কারণে মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে রড রাখায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।

গতকাল বুধবার কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ পথে রাখা আছে প্রতিবেশীর একটি ট্রাক্টর। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ট্রাক্টরটি এখানেই রাখা থাকে। ছোট মাঠে রাখা আছে ওয়াশ ব্লক নির্মাণসামগ্রী। উত্তর দিকে থাকা আধাপাকা ভবনের মাঝের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকের বসার চেয়ারের পেছনেই রাখা হয়েছে রডের বান্ডেল।
শিক্ষকদের কক্ষে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু করে নূর ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পিলার ও ছাদ তৈরির পর বেশ কয়েক মাস কাজ বন্ধ রাখে। সম্প্রতি গাঁথুনির কাজ শুরু হয়েছে। এতদিন ধরে ইট-বালু মাঠেই স্তূপ করে রাখা আছে। আবার অন্য একজন ঠিকাদার একই সঙ্গে ঢিলেঢালাভাবে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন।  ঠিকাদারের লোকজন শ্রেণিকক্ষে রড রেখে কাজ করছেন। এ কারণে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অবসরে খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের ছোট মাঠটিও ব্যবহার করতে পারছে না। তারা পাশে থাকা সড়কে গিয়ে খেলাধুলা করে অবসর সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। তা ছাড়া শ্রেণিকক্ষে রাখা রডের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষকদের।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ও নাফিজা জানায়, মাঠের অভাবে এখন আর তারা বিদ্যালয়ে এসে খেলাধুলা করে না।

প্রতিবেশী বৃদ্ধ আরজু মিয়া বলেন, মাঠে ইট-বালু ও সুরকি রাখা মোটেও উচিত হয়নি। ছেলেমেয়েরা রাস্তায় এসে খেলাধুলা করছে। এতে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে?
বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর ট্রেডার্সের মালিক হুমায়ুন কবীরের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও রিসিভ করেননি। 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূঁইয়া জানান, নির্মাণসামগ্রী রাখার সময় নিষেধ করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি সংশ্লিষ্টরা। এখন সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাগাদা দিলেও সরিয়ে নিচ্ছে না।
নান্দাইল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রেবেকা সুলতানার ভাষ্য, মাঠে বা শ্রেণিকক্ষে মালপত্র রেখে কাজ করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে মাঠ থেকে নির্মাণসামগ্রী সরানোর ব্যবস্থা করবেন।
গতকাল বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

আরও পড়ুন

×