মাধবপুরের ছাতিয়াইন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র
দীর্ঘ চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকায় গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক রোগী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বর্তমানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে জাহিদুল ইসলাম কর্মরত রয়েছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি প্রতি সপ্তাহে সোম ও মঙ্গলবার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ওই দুই দিন ছাতিয়াইন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কার্যত চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ফার্মাসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। কয়েক মাস আগে পার্শ্ববর্তী নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক রেজাউল করিমকে ডেপুটেশনে এনে ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের মে মাসের ১ তারিখ থেকে তাকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিসপেনসারিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রমেও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রেজাউল করিম জানান, দেড় মাসের জন্য অফিসিয়ালি তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এখন ছাতিয়াইন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
অন্যদিকে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) পদটিও প্রায় ছয় বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে। ফলে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় নারীরা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা না পাওয়ায় অনেক সময় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাতিয়াইন ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে নামমাত্র চালু রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে জরুরি রোগী ও বৃদ্ধদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছাতিয়াইন গ্রামের বাসিন্দা হেমন্ত পাল বলেন, ‘ছাতিয়াইন থেকে উপজেলা সদর অনেক দূরে। দরিদ্র মানুষদের জন্য সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কষ্টকর। এখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পেত।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একজন ফার্মাসিস্ট হজ পালনের জন্য ছুটিতে থাকায় সাময়িকভাবে রেজাউল করিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে।
- বিষয় :
- চিকিৎসা
