ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সড়কের কাজ ফেলে চলে গেছেন ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

সড়কের কাজ ফেলে চলে গেছেন ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
×

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল-চারটভাঙা এবং খর্গপুর থেকে মেহরন দালাল বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়ক সমকাল

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ ফেলে পালিয়ে গেছেন ঠিকাদার। তিন বছরেও সড়কটির কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকার মানুষ। এই অবস্থায় ঠিকাদারকে খুঁজে না পাওয়ায় কাজের চুক্তি বাতিল করতে চিঠি চালাচালি চলছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা। মেহরন দালাল বাড়িতে মন্দিরে যাতায়াত করেন ভক্তরা। কিন্তু নির্মাণাধীন সড়কটির কারণে তিন বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে, মাছুয়াখাল-চারটভাঙা এবং খর্গপুর থেকে মেহরন দালাল বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে ইটের তৈরি ‘হেরিং বোন বন্ড’ ছিল। ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেড় কিলোমিটার করে দুই ভাগে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ পায়। তিন কোটি ৫৪ লাখ টাকার কাজটি পায় মেসার্স মতলব ট্রেডিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৩ সালের ২ মে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ কাজটি শেষ করার কথা ছিল। এই পর্যন্ত অর্ধকোটি টাকার বেশি তাদের দেওয়া হয়েছে। তারা কাজটি শুরু করে মাঝপথে ফেলে রেখে অজ্ঞাত কারণে লাপাত্তা হয়ে গেছে। বার বার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করাতে পারেনি এলজিইডি। সড়কটির কাজ শেষ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসেও একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। এখনও ৫০ শতাংশের বেশি কাজ বাকি রয়েছে।

পাকা করার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ফেলে রাখায় ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসী এখন ক্ষুব্ধ। আবুল হোসেন নামে একজন বলেন, ‘এটি কোনো কথা? এক সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করতে ৪ বছর শেষ হইল, আরও কয় বছর শেষ হয় কে জানে!’ তিনি জানান, গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, লরি, কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি, প্রাইভেটকারসহ অনেক যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার এই ভগ্নদশার কারণে চলাচল করা কষ্টসাধ্য। তিনি বলেন, ‘যেটুকু কাজ হয়েছে, তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, দ্রুত পুনঃদরপত্র করে বা যে কোনো বিকল্প উপায়ে সড়কটির কাজ শেষ করা জরুরি। সামনে ঈদুল আজহা, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ এলাকায় ঈদ করতে আসবেন। এই রাস্তার কারণে তাদের চলাচল কষ্টকর হবে। তাছাড়া সামনে বর্ষা আসছে, তখন তো আরও দুর্গতি হবে এলাকার মানুষের।
বক্তব্য জানতে মেসার্স মতলব ট্রেডিংয়ের ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সমকালকে জানান, জেলা ও উপজেলা থেকে ঠিকাদারকে বহুবার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন ঠিকাদারকে না পাওয়া গেলে নিয়ম অনুসারে তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কবে সেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাঁর কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি। এ দিকে চলতি অর্থবছরও শেষ হতে আর মাত্র দেড়মাস বাকি।’

আরও পড়ুন

×