ডেন্টাল কেয়ারে তোলা হলো ছাগলের দাঁত
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ২০:২১
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির উদ্দেশ্যে মানুষের দন্ত চিকিৎসালয়ে (ডেন্টাল কেয়ার) নিয়ে একটি ছাগলের দাঁত তোলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার মহিলা কলেজ গেট সংলগ্ন আলভি ডেন্টাল কেয়ারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাগলের দাঁত তোলার বিষয়টি টের পেয়ে পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তি ও তার এক সহযোগীকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা মানুষের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে ছাগলের কাঁচা দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেন।
অভিযুক্তরা দাবি করেন, ছাগলটির একটি দাঁত নড়বড়ে ছিল, তাই সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। তবে পশুর চিকিৎসার জন্য পশু চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে কেন যাওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁরা আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘হুনছি এইহানে দাঁত তুলে, এইজন্য তুইলা নিয়া বেইচ্চা হালাম।’
স্থানীয়রা বলছেন, কম বয়সী বা অপরিপক্ব ছাগলের দাঁত তুলে সেটির বয়স গোপন করার চেষ্টা ক্রেতাদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।
তাছাড়া, মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম দিয়ে ছাগলের দাঁত তোলায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাঁচা দাঁত তোলা প্রাণীর প্রতি চরম অবিচার। যে সরঞ্জাম দিয়ে পশুর দাঁত তোলা হয়েছে, তা দিয়েই আবার মানুষের চিকিৎসা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলভি ডেন্টাল কেয়ারের মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি প্রতিষ্ঠানে ছিলাম না। আমার দোকানের এক কর্মচারী না বুঝেই ছাগলটির দাঁত তুলেছে।’
এদিকে দাঁত তোলার কথা স্বীকার করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী রাকিব বলেন, ‘আমার এক পরিচিত লোক ছাগলটি নিয়ে এসেছিলেন। চেনার কারণে দাঁতটি তুলে দিয়েছি, তবে এর জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’
ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানা এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রাণীর প্রতি এ ধরনের আচরণ ‘প্রাণিকল্যাণ আইন’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
