ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বগুড়ায় জমি বিক্রির টাকার জন্যই গৃহবধূকে হত্যা: পুলিশ

বগুড়ায় জমি বিক্রির টাকার জন্যই গৃহবধূকে হত্যা: পুলিশ
×

গ্রেপ্তার শাওন ও আনোয়ার

বগুড়া ব্যুরো 

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১৬:৩২

বগুড়ার গাবতলীতে জমি বিক্রির টাকা লুট করতে গিয়ে চিনে ফেলায় রিতা মজুমদার নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা পূর্বপাড়ার ফরিদ প্রামাণিকের ছেলে শাওন মিয়া (২০) এবং একই এলাকার মোকলেছের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তারা দুজনেই পেশায় দিনমজুর। 

পুলিশ সুপার জানান, ‘গত ২০ মে রাতে গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামের রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বিধান মজুমদার রাতের খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে বিধান মজুমদার স্ত্রীর রুম থেকে গোঙ্গানীর শব্দ শুনে জেগে ওঠেন। তিনি কয়েক মিনিট পর স্ত্রীর  কক্ষে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা এবং রিতা মজুমদার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনকে ডাকাডাকি করলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার পর গাবতলী থানা-পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে শাওন মিয়াকে মমিনহাট গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে শাওন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের নাম প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করে। আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারে রিতা মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর দুজন মিলে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র কিনে আনেন। ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে গেলে দুই আসামি চুপিসারে বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত সোয়া ১২টার দিকে শাওন দরজায় ধাক্কা দেন। শব্দ পেয়ে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে আনোয়ার তার হাতে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিতার গলায় কোপ দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।  হত্যাকান্ডের পর ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।’

আরও পড়ুন

×