ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘ডুবে ডুবে ধান না কাটলে সারা বছর খাব কী!’

‘ডুবে ডুবে ধান না কাটলে সারা বছর খাব কী!’
×

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১০:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাসে অতিবৃষ্টিতে এবারই প্রথম বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ডুবে ডুবে সেই ধান সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। না হলে খেতে পাবে না পরিবারের মুখগুলো। গতকাল সোমবার সকালে সদর উপজেলার ভেলাজান, রহিমানপুরের বিল নড়লই, রায়পুরের বেংরোল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ নিচু জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করার পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

বৈশাখ মাসের প্রথম থেকেই প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে। এদিকে গত তিন দিনের বৃষ্টিপাতে ধান উৎপাদনের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শত শত বিঘা জমির ধান ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ধান বুক বরাবর পানিতে অনেক কষ্টে সংগ্রহ করছেন চাষিরা। যে জমিতে আরও বেশি পানি সেখানকার ধান কেটে ভাসমান হাঁড়ি-পাতিলে সংগ্রহ করছেন অনেকে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান হীরামন পাড়া গ্রামের টিয়াবুল রায় একজন দিনমজুর। অনেক কষ্টে ১৪ কাঠা জমির বোরো ধান আবাদ করেছিলেন তিনি। বৃষ্টির পর সেই ধান এখন পানির তলে। টিয়াবুল রায়ের পরিবারের সদস্য ছয়জন। সারা বছর কী খাবে সেই চিন্তায় ডুবে ডুবে ধান সংগ্রহ করছেন তিনি। 
পাশের গ্রামের সোলেমান আলীর দুই বিঘা জমিতে চাষ করা বোরো ধানও ডুবে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন নিজে কী খাব আর ধারদেনা কেমনে শোধ করব সেই চিন্তা করছি।’ একই উপজেলার দক্ষিণ ভেলাজানের কৃষক আবু রায়হান বলেন, ‘এবারের মতো আবহাওয়া কোনোদিন দেখিনি। বৈশাখ মাস থেকেই যেন বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। সরকার যদি আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দিকে না দেখে তাহলে আমরা আর বাঁচব না।’ 

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, নদীর আশপাশে, বিল ও নিচু এলাকার ধান এখন পানির নিচে চলে গেছে। ডুবে যাওয়া ধান দ্রুত না কাটলে নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে, ধান উৎপাদনে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লোকসানের আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, ‘ধানের ওপরে পানি, তারপর প্রচুর জোঁক’। ঋণের ভয়ে জোঁকের অত্যাচারেও থেমে নেই ডুবে যাওয়া ধান সংগ্রহের অভিযান। জোঁকের হাত থেকে বাঁচাতে মোটা কাপড়ে হাত-পা ঢাকছেন কৃষকরা। নয়তো ধান কাটতে নামা কৃষকদের শরীরের কোনো জায়গা বাদ থাকছে না জোঁকের কামড় থেকে। 
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। আরও ধান পাকলেও, অতিরিক্ত পানির কারণে কাটতে পারছেন না চাষিরা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে; সেই সঙ্গে ডুবে যাওয়া ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডুবে যাওয়া ধান সংগ্রহ করতে পারলে কিছুটা হলেও ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন কৃষকরা। তবে বৈরী আবহাওয়াতে কাটা ধান শুকাতেও পারছেন না চাষিরা। 
বৃষ্টির পানিতে বোরো ধান ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঠাকুরগাঁওয়ে এবারই প্রথম দেখা গেল। শুধু ধান নয়; ভুট্টা, মরিচ এবং শাকসবজি চাষিরাও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, বৃষ্টির পানি আরও বেড়ে গেলে নিচু এলাকার বোরো ধান সংগ্রহে অনেক বিপাকে পড়তে হবে তাদের।

আরও পড়ুন

×