ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ, বাবা-মাকে পিটিয়ে আহত 

মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ, বাবা-মাকে পিটিয়ে আহত 
×

ফাইল ছবি

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ২২:১৮ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ২২:২৮

দিনাজপুরের হাকিমপুরে কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মেয়ের বাবা-মা ও মামাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কিশোরীর মাসহ তিন নারীকে বাড়িতে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে তাদের উদ্ধার করে থানা পুলিশ। গত রোববার রাত ৯টায় উপজেলার নয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে মেয়ের বাবাকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহত মেয়ের মামাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় মেয়ের মা গতকাল সোমবার বখাটে কিশোরকে প্রধান অভিযুক্ত করে সাতজনের নামে থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। 

জানা গেছে, উপজেলার লোহাচাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী পোশাক শিল্পের কর্মী হিসেবে চাকরির কারণে গাজীপুর এলাকায় থাকেন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন তারা। রোববার ওই ব্যক্তি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নয়ানগর গ্রামে বেড়াতে যান। সন্ধ্যায় তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে স্বজনদের সঙ্গে পাশের ডাঙ্গাপাড়া বাজারে ফুচকা খেতে যায়। এ সময় ফুচকার দোকানে নানাবাড়ি গ্রামের এক কিশোর তাকে উত্ত্যক্ত করে। এ সময় সেখানে কিশোরীর স্বজনদের সঙ্গে ওই কিশোরের তর্কবিতর্ক হয়। এরপর কিশোরী স্বজনদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে ওই কিশোর তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তারা বাড়ি গিয়ে ঘটনাটি পরিবারকে বললে মেয়ের বাবা-মা ও মামা ওই কিশোরের বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবকদের বিষয়টি জানান। এতে ওই কিশোর ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের লোকজন ও বন্ধুকে নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কিশোরীর বাবা ও মামা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে কিশোরীর মামি ও নানি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তারা কিশোরীর মা, মামি ও নানিকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে। পরে কিশোরীর বাবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

কিশোরীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে ঢাকায় স্বামীসহ গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। দুই ঈদ ছাড়া বাড়ি আসা হয় না। তাই ঈদের পর বাবার বাড়ি যান। সেখানে ওই বখাটে কিশোরের হামলায় তাঁর স্বামী ও ভাই মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি ছেলের অভিভাবককে জানাতে গিয়েছিলেন। এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের নির্যাতন করেছে। তারা তাঁকে, তাঁর বৃদ্ধ মা ও ভাবিকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করেছে। তিনি তাদের বিচার চান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোরের বাবা সাগর হোসেন জানান, তারা (কিশোরীর পরিবার) তাদের বাড়িতে এসে তাঁর স্ত্রীকে প্রথমে মেরেছে। এতে ছেলে ও প্রতিবেশীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর করেছে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন নারী ও দুই পুরুষকে আহত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া একজনের মাথায় পাঁচটি সেলাই দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনজন নারীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের কারণে জখম ও ফোলা থাকায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হাকিমপুর থানা ওসি জাকির হোসেন জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে উপজেলার নয়ানগর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় পাঁচ নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×