ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সড়ক ঘেঁষে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, সাত দিনে ৩০ দুর্ঘটনা

সড়ক ঘেঁষে অসংখ্য ছোট-বড়  গর্ত, সাত দিনে ৩০ দুর্ঘটনা
×

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সুন্দরগঞ্জ-হরিপুর সড়কের পাশে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মেরামত না করে লাল কাপড় টাঙ্গিয়ে দায়িত্ব সেরেছেন সংশ্লিষ্টরা। মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের বেলকা কদমতলা এলাকা থেকে রোববার তোলা- সমকাল

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সুন্দরগঞ্জ-হরিপুর সড়কের দুই পাশে অসংখ্য বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল গর্তগুলো দেখলে মনে হয় এ যেন একেকটি মরণ ফাঁদ। প্রতিদিন ব্যস্ততম এই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে নানা ধরনের ছোট যানবাহন। গত সাত দিনে গর্তের কারণে অন্তত ৩০ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।  

জানা গেছে, মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়ক হিসেবে ২০২৪ সালে এলজিইডির সার্বিক তত্ত্বাবধানে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। হরিপুর সেতু পয়েন্ট হতে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারের সড়কটিতে ভারী বৃষ্টির কারণে শতাধিক স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কের চান্দের মোড়, মজিদপাড়া স্কুলের মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে পানি জমে থাকায় পিচ উঠে রাস্তার মাঝে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মেরামত বা সংস্কার না করে চালক ও যাত্রীদের সতর্ক করা গর্তের পাশে লাল কাপড় টাঙিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পৌর শহরের বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সড়কের গর্তসমূহ মেরামত করা দরকার। তা না হলে গর্তের স্থানে সড়কে ধসের সৃষ্টি হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে  দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। 

ধুমাইটারি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটির দুই পাশে অনেক নালার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। যা যানবাহন চালক ও যাত্রীদের চলাচলে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, বালু মাটি দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সে কারণে সামান্য বৃষ্টি নামলেই গর্ত ও নালার সৃষ্টি হয়। পাকা সড়ক থেকে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা না করলে সবসময় সড়কটির দুই পাশে গর্তের সৃষ্টি হতে থাকবে। 

উপজেলার বেলকা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার দুলাল বলেন, গর্তগুলো যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে অন্ধকারে পথচারীসহ যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি সড়কের এসব বিশাল গর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যমে  ভাইরাল হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানবাহন চালক ও পথচারীদের সতর্ক করার জন্য গর্তের পাশে লাল কাপড় টাঙিয়ে দিয়েছে।
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহাবুবুর রহমান জানান, এক বছর পর্যন্ত সড়কটি মেরামতের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পানি নেমে যাওয়ার জন্য নালা তৈরি করে দিতে হবে। তা না হলে এ অবস্থা চলতে থাকবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাঠানো হয়েছে। 
উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত পথচারী ও যানবাহন চালকদের সতর্ক করার জন্য গর্তের পাশে লাল কাপড় সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×