সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক
কার্যাদেশ অনুযায়ী হচ্ছে না রক্ষণাবেক্ষণ কাজ
সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার তোলা - সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথের (সওজ) সাড়ে ৩২ কোটি টাকার কাজটি কার্যাদেশ অনুযায়ী হচ্ছে না। কার্যাদেশ (বেইজ টাইপ-১) অনুযায়ী রাস্তার স্ক্যরিফাই করে বিটুমিনাস উঠিয়ে ৮ ইঞ্চি বেইজ টাইপ করার কথা। বাস্তবে করা হচ্ছে দুই থেকে তিন ইঞ্চি।
শুধু তাই নয়, কাজের মান নিয়েও আছে প্রশ্ন। ঠিকমতো কাজ না হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে গত নভেম্বরে কাজ শুরু হলেও ছয় মাসে শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। আগামী আগস্টে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে কাজে ধীরগতির কারণে সড়কে চলাচলে বাড়ছে ভোগান্তি।
সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মোগলাবাজার পর্যন্ত কাজই শুরু হয়নি। বাজারের পর বিটুমিন উঠিয়ে কয়েক কিলোমিটার বালু ও পাথর মিশিয়ে রোলিং করা হয়েছে। আরও কয়েক কিলোমিটার করা হয়েছে পিচের কাজ।
সিলেট সওজের আওতাধীন পিএমপি বা পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। রাস্তা মেরামত, ডিবিএস বেস কোর্স, ডিবিএস ওয়ারিং কোর্স, রোড মার্কিং, দিকনির্দেশনা গ্যান্ট্রি, ট্রাফিক সাইন ও সাইনপোস্ট স্থাপনের এ কাজে খরচ ধরা হয় ৩২ কোটি ৪৯ লাখ ৬২ হাজার ৯২০ টাকা। গত বছরের ২৫ নভেম্বর সওজের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সই হওয়ার পর ২৭ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৪ আগস্টের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা। কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেসিন প্লান্টের মাধ্যমে কাজ করার কথা। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেসিন প্লান্ট ব্যবহার না করে অ্যাসফল্ট মেশিন দিয়ে কাজ করছে, এতে গুণগত মান বজায় থাকছে না। পুরাতন বিটুমিন উঠিয়ে সেখানে ৮ ইঞ্চি বেইজ টাইপ করার কথা। এরমধ্যে ৬ ইঞ্চি পুরুত্ব থাকবে। তবে দেখা গেছে, পুরাতন রাস্তা উঠানোর পর বালু-পাথর মিশিয়ে রোলিং শেষে পিচঢালার পর সেই পুরুত্ব থাকছে না।
সরেজমিন মোগলবাজার থেকে মির্জাপুর-মাহমুদাবাদ এলাকায় দেখা গেছে, পুরোনো রাস্তার বিটুমিন সরিয়ে নেওয়ার পর বালু-পাথর রুলিং করে রাখা হয়েছে। কটালপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। মাহমুদাবাদের এক বাসিন্দা জানান, ইচ্ছামতো কাজ করা হচ্ছে। কখনও ধুলোবালি কখনও বা কাদার সৃষ্টি হয়। উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ জিলু জানান, কাজে ধীরগতির কারণে ভোগান্তি হচ্ছে। বার বার তাগদা দেওয়ার পরও কাজে গতি আসছে না। তিনি বলেন, প্রতিবছর তো আর সড়কের কাজ হবে না। একই সড়কে তিন বছর আগে করা কাজটি এখনও কোনো ক্ষতি হয়নি। অথচ নতুন কাজ দেখে মনে হচ্ছে তা টেকসই হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে উন্নয়ন কাজে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গৌর দ্বীপ কাজের বিষয়ে পুরো তথ্য জানেন না। সমকালকে তিনি জানান, তাদের নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সিলেটে তাদের বেসিন প্লান্ট রয়েছে। পরে এ বিষয়ে কথা বলেন স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল মুন্না আহমদ। তিনি কাজের ধীরগতি প্রসঙ্গে বলেন, শুরুতে জ্বালানি না পাওয়ায় একমাস দেরি হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করছেন দাবি করে তিনি জানান, তারা শিববাড়ী এলাকায় বেসিন প্লান্ট ভাড়া নিয়ে কাজ করছেন।
সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্ভবত বেসিন প্লান্ট ভাড়া নিয়ে কাজ করছে। অন্যান্য কাজের বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- সড়ক
