ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

মাদক ব্যবসার অভিযোগ সালিশে চোখ-হাত বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

মাদক ব্যবসার অভিযোগ সালিশে চোখ-হাত বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৩:৩২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে হবি মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে সালিশে হাত ও চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া (৪০) নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।   

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সালিশে সবার মাঝখানে হবি মিয়াকে দাঁড় করানো হয়। এরপর একজন এসে গামছা দিয়ে তাঁর চোখ এবং দড়ি দিয়ে হাত বাঁধেন। পরে তাঁকে মাটিতে বসিয়ে হাত ও পায়ের ভেতর একটি পাইপ ঢোকানো হয়। আরেকজন এসে হবিকে মাটিতে কাত করে ফেলে দেন। অন্য একজন এসে বোতল থেকে তাঁর মুখে পানি ঢালেন। এরপর দুজন হবিকে ধরে রাখেন এবং আরেকজন লাঠি দিয়ে পায়ের তালুতে আঘাত করতে থাকেন। হবি ‘মাগো, বাবাগো’ বলে চিৎকার করেন। অনেকক্ষণ নির্যাতনের পর মাদক সেবন ও বিক্রি করবেন না, এমন শর্তে হবিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নারুই গ্রামের সর্দার মোকাররম, মোহসিন, তাজু, ইউপি সদস্য হানিফসহ কয়েকজন মিলে হবি মিয়াকে সালিশে নির্যাতন করেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে শুরু হয় সমালোচনা। অনেকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও বেশির ভাগ মানুষ সালিশের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

মানিক হায়দার নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘কেউ অপরাধী হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হবে না। নির্যাতনে জড়িত এসব কথিত সর্দারকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্যাতনে অংশ নেওয়া ইউপি সদস্য মো. হানিফ বলেন, গ্রামে মাদক বিক্রেতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মাদক বিক্রয়ের কারণে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং গ্রামে চুরির ঘটনাও বাড়ছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে বাঁচাতে মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (নির্যাতন) একটু বেশিই হয়ে গেছে।

নবীনগর থানার শিবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক। নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। হবি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এভাবে সালিশে তাঁকে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, কেউ নির্দয়ভাবে কোনো ব্যক্তিকেই প্রকাশ্যে এভাবে হাত-পা বেঁধে পেটানোর মতো জঘন্য কাজ করতে পারেন না। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×