সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দিয়েছেন। কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তারা হলেন সাবেক দুই সেনাসদস্য তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে সাবেক দুই সেনাসদস্য তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার আদেশ দেন বিচারক। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়। শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
কুমিল্লা আদালত সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই দিন ঢাকায় সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর তাঁকে ঢাকায় পিবিআইর বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সম্প্রতি তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করেন। গতকাল হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করার দিন রাখা ছিল। তবে এদিন তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) আদালতে মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। তবে আমি আজ কুমিল্লায় যাইনি। আদালত থেকে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটা এখনও জানতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি তনু হত্যা মামলার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় আরেকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা মিলেছে। আগের তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন করে তথ্য আসা ব্যক্তির রক্তের নমুনা মিলেছে তনুর পোশাকে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন।
- বিষয় :
- তনু হত্যা