কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবারের টেন্ডারে অনিয়ম, কার্যাদেশ বাতিলের দাবি
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
খাবারের টেন্ডার জালিয়াতি ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অভিযোগ উঠেছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রোগীদের পথ্য (খাবার) সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুর্নীতির মাধ্যমে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে পাশ কাটিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ জানিয়ে এই কার্যাদেশ বাতিলের দাবিতে উপপরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেট বরাবর গত ৭ জুন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন টেন্ডার বঞ্চিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাফি এন্টারপ্রাইজ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক স্মারকে ইজিপি প্রক্রিয়ায় রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। গত ১৬ মার্চে টেন্ডার খোলার পর দেখা যায়, মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ ২২ হাজার ২২০ টাকা দর দিয়ে প্রথম সর্বনিম্ন এবং নাফি এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৭৯০ টাকা দর প্রদান করে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তালিকায় স্থান পায়।
অন্যদিকে জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্স ৩০ লাখ ৫২ হাজার ১৭০ টাকা এবং আরিয়ান ট্রেডার্স ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ টাকা দর উল্লেখ করে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা নাফি এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৮০ টাকা বেশি দর দেওয়া সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে তৃতীয় অবস্থানে থাকা জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার খোলার ১৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও রহস্যজনক কারণে প্রায় দুই মাস আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগের দিন অত্যন্ত গোপনে ও তড়িঘড়ি করে এই কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নাফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় থাকলেও অজ্ঞাত কারণে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি গোপন আঁতাত বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়ার একক নিয়ন্ত্রণে চলছে হাসপাতালের অনেক কার্যক্রম। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্টোর কিপার জড়িত ছিলেন। তবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। স্যানিট্যারি ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া একাই টেন্ডারের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই কার্যাদেশটি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি টেন্ডার কমিটির অনেক সদস্যই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করবেন। এভাবে টেন্ডার দেওয়ার নিয়ম আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স