ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কল্পনা চাকমা অপহরণের ৩০ বছরেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ, মানববন্ধন

কল্পনা চাকমা অপহরণের ৩০ বছরেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ, মানববন্ধন
×

ছবি: সমকাল

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ১৯:৩৬

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার না করে উল্টো দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা। তাদের দাবি, এ ঘটনার বিচার না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর হতাশা বিরাজ করছে।

শুক্রবার কল্পনা চাকমা অপহরণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হিল উইমেন্স ফেডারেশন জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, দিন দিন পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারীদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। এতে পাহাড়ের নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তারা দ্রুত পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জুম্ম নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আইনজীবী দীপন চাকমা। তিনি বলেন, মামলাটি বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খারিজ করেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি এবং ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে একই দিন কল্পনা চাকমার দুই ভাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অপহরণকারীদের শনাক্ত করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন জানান।

লেখক ও শিক্ষাবিদ শিশির কান্তি চাকমা বলেন, ‘আসামি শনাক্ত করা যায়নি বলে মামলা খারিজ করা—এটা পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ বিশ্বাস করে না।’ তিনি তনু হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতির উদাহরণ টেনে কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলারও পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

হিল উইমেন্স ফেডারেশন জেলা শাখার সভাপতি কবিতা চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাগর ত্রিপুরা নান্টু, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ম্রানুচিং মারমা, সুরেশ চাকমা, কাঞ্চনমালা চাকমা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন কল্পনা চাকমা। দীর্ঘ সময় মামলা চললেও ২০২৪ সালে পুলিশ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে কাউকে দোষী হিসেবে শনাক্ত করতে না পারার কথা জানায়। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হয়।

আরও পড়ুন

×